মূর্তি বসিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতাকে দেবীরূপে পুজো মেদিনীপুরের বৃদ্ধের
মূর্তি বসিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতাকে দেবীরূপে পুজো মেদিনীপুরের বৃদ্ধের
তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও দিন দেখা করেননি। কিন্তু তাঁকে বসিয়েছেন দেবীর আসনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তার এতটাই শ্রদ্ধা ও ভক্তি যে লক্ষাধিক টাকা দিয়ে একটি শ্বেত পাথরের মূর্তি করে সেটাকে ভগবান রূপে পুজো করেন। তার বাড়িতে, পুজোর ঘরে, আর যে সব দেব দেবীর মূর্তি ও ছবি আছে তার পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তি রেখে তাঁকে দেবীজ্ঞানে ও ভগবান রূপে নিত্য পুজো করেন তিনি।

মমতাময়ী মা
তিনি সুদর্শন রায়। আটাত্তর বছর বয়সী সুদর্শন রায় পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর এলাকার বাসিন্দা। তার কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভগবান, 'মমতাময়ী মা'। শুধু মাত্র সাধারণ পুজো না, রীতিমতো কাঁসর ঘন্টা শাঁখ বাজিয়ে তিনবেলা পুজো হয়। অনেক সময় ডেকে নিয়ে আসেন প্রতিবেশীদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরসঙ্গে তার দেখা না হলেও, তার জন্মদিনে করেন বিশেষ পুজো। তার ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেন বাঙালি ও বাঙলার মানুষ যেন তাঁর আশীর্বাদে ও শুভেচ্ছাতে আরও ভালো থাকেন।

সাক্ষাতের আশা
"তিনি দেবী। তার হাত ধরেই এই রাজ্যের ভালো হচ্ছে। তার সঙ্গে আমি একবার দেখা করতে চাইছি। তিনি আমাদের জেলায় অনেকবার এসেছেন। কিন্তু তার সঙ্গে আমি দেখা করতে পারিনি। শুধু একবার আমার দেবীর সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে চাই" বলেন তিনি।

দেবীজ্ঞানে পুজো
মুখ্যমন্ত্রীর মূর্তি গড়ে এই জেলার একজন মানুষ তাঁকে দেবীজ্ঞানে নিত্য পুজো করেন শুনে চমকে গিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলার এক বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা বিধায়ক অখিল গিরি। "আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা করেছেন, যে ভাবে এই রাজ্যের উন্নয়ন করছেন তাতে অনেকেই মনে করেন যে তিনি মমতাময়ী মা। তার আশ্রয়ে আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করছি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করে কেউ তাঁর নিত্য পুজো করেন বলে আগে শুনিনি। আমি এই বিষয়টি আমাদের দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলব। এই ব্যক্তি যাতে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসে কথা বলতে পারেন তার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

মূর্তি স্থাপন
তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে ছোট মেজো বড়ো সব নেতাই মনে করেন যে তিনি রাজ্যের সকলের জন্য যা করেছেন তা অন্য কেউ কোনোদিন করেননি আর করতেও পারবেন না। কালীঘাটের কুঁড়েঘর থেকে যেভাবে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি দেশের রাজনীতির কেন্দ্র দিল্লিতেও তার চিন্তাধারা ও ভাবধারার মাধ্যমে গিয়ে পৌঁছাতে পেরেছেন তা আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেবীর মতোই হলেও কেউ তাঁর মূর্তি স্থাপন করে নি। তাদের সকলের ঘরে, দলের কার্যালয়ে এমনকী অনেকের পার্সে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকে। কিন্তু মূর্তি স্থাপন করে নিত্য পুজো করার চিন্তা ভাবনা আসেনি।

মমতায় অনুপ্রাণিত
সুদর্শন রায় জানিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের কথা, তার চিন্তাধারা ও কাজ করার ধারা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবীর আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তাই তাঁর মূর্তি স্থাপন করে অন্য গৃহদেবতার সঙ্গে নিত্য পুজো করেন তার জীবন্ত ভগবান 'মমতাময়ী মায়ের'।












Click it and Unblock the Notifications