Odisha Train Accident: আজও বাতিল বহু ট্রেন, স্পেশাল ট্রেনেই ভরসা, জেনে নিন তালিকা
শুক্রবার রাতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর ওড়িশাগামী ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবারের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তবে দুর্ঘটনার জেরে একের পর এক ট্রেন বাতিল হয়ে গিয়েছে।
চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। হাওড়া থেকে বালেশ্বর পর্যন্ত স্পেশাল ট্রেন চালালো দক্ষিণ পূর্ব রেল। রবিবার সকাল ১১.১৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশনের নিউ কমপ্লেক্স এর ২২ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে ছাড়ে ট্রেনটি। মূলত দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের পরিবারের লোকজনেরা যাতে যেতে পারেন সেকারণেই এই স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। তবে এই ট্রেনে আহত কিংবা মৃত যাত্রীদের পরিবারের কোনও লোকজনকে এদিন কার্যত হাওড়া স্টেশনে দেখা যায়নি।

সাধারণ কিছু যাত্রীকে যেতে দেখা গেছে।এপ্রসঙ্গে দক্ষিণ পূর্ব রেলের ডিভিশনাল চিফ ট্রান্সপোর্টেশন ইন্সপেক্টর নির্মাল্য বর্মন জানান দুর্ঘটনার কবলে পড়া যাত্রীদের পরিবারের জন্য এই ট্রেন চালানো হলেও যেহেতু প্রত্যেকটা স্টেশনে এই ট্রেন থামবে তাই সাধারণ যাত্রীরাও এখানে অনেকে যাচ্ছেন। রেলের তরফ থেকে স্পেশাল ট্রেন পেয়ে খুশি যাত্রীরা।
এদিকে এই দুর্ঘটনার জেরে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সেই তািলকায় রয়েছে হাওড়া-ফলকনুমা এক্সপ্রেস, হাওড়া-বেঙ্গালুরু এসএমভি এক্সপ্রেস, শালিমার-হায়দরাবাদ ইস্ট কোস্ট এক্সপ্রেস, সাঁতরাগাছি-তিরুপতি এক্সপ্রেস শালিমার-চেন্নাই সেন্ট্রাল এক্সপ্রেস, দিঘা-পুরী এক্সপ্রেস, শালিমার-পুরী এক্সপ্রেস, খড়গপুর-জাজপুর কেওনঝড় রোড এক্সপ্রেস হাওড়া-ভদ্রক এক্সপ্রেস, পুরী-জলেশ্বর মেমু, পুরী-বাংরিপসি সুপারফাস্ট বািতল করা হয়েছে। এছা়ড়াও খড়গপুর-খুরদা রোড এক্সপ্রেস, ভুবনেশ্বর-বালাসর মেমু, পুরী-হাওড়া সুপারফাস্ট, পুরী-নন্দনকানন এক্সপ্রেস, পুরী-শালিমার এক্সপ্রেসও বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকেই একের পর এক ট্রেন বাতিল করা হয়। তার জেরে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই স্টেশনে গিয়েও বাড়ি ফিরে যান। শেষে বালাসোর পর্যন্ত রবিবার একটি স্পেশাল ট্রেন চালিয়েছে রেল। বুধবারের মধ্যে ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে বার্তা দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। ততদিন পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে না।
শুক্রবার রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয় করমণ্ডল এক্সপ্রেস। একটি মালগাড়ি এবং যশবন্তপুর এক্সপ্রেসের সঙ্গে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ১৬টি বগি লাইনচ্যূত হয়। আর যশোবন্তপুর এক্সপ্রেসের ১৭টি বগি লাইনচ্যূত হয়েছে। তার জেরে মৃত্যু মিছিল শুরু হয়েছে। প্রায় ২৯০ জনের কাছাকাছি মারা গিয়েছে যাত্রী। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খতিয়ে দেখেন দুর্ঘটনাস্থল। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পরিস্থতি সামাল দিতে জাতিয় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং সেই সঙ্গে বায়ু সেনাও নামানো হয়েছে। বুধবারের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো। তিনি জানিয়েছেন কোন কারণে দুর্ঘটনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে।
ইতিমধ্যেই রেলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম জানিয়েছে সিগনালিংয়ের ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। একই লাইনে চলে এসেছিল করমণ্ডল এক্সপ্রেস এবং একটি মালগাড়ি। দ্রুত গতিতে আসা করমণ্ডল এক্সপ্রেস ধাক্কা মারে মালগাড়ির পিছনে মালগাড়ির বগি ছিটকে গিয়ে পড়ে পাশের লাইনে। সেখানে তখন যাচ্ছিল যশোবন্তপুর এক্সপ্রেস। মালগাড়ির ধাক্কায় লাইনচ্যূত হয় সেই ট্রেনের তিনটি বগি।












Click it and Unblock the Notifications