রানাঘাট কাণ্ডে মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা, ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ
কলকাতা, ১৬ মার্চ : কনভেন্ট অব জিসাস অ্যান্ড মেরি স্কুলের সিস্টারকে ধর্ষণের ঘটনার পর তিনদিন কেটে গেলেও এখনও মূল অভিযুক্তদের ধরতে পারেনি প্রশাসন। ফলে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার বাসিন্দাদের। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভও দেখান তাঁরা।
অন্যদিকে আজ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি জিএমপি রেড্ডি। রানাঘাটে হাসপাতালে গিয়ে নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনার পরই তার তীব্র নিন্দা করে তিনি সরকারের তরফে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন। রানাঘাট যাওয়ার আগে নবান্নে দাঁড়িয়ে ফের একবার গোটা ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, "যত কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব তা নেওয়া হবে। এমন ঘটনা নিয়ে আমি জীবনে কখনও আপোস করিনি আজও করব না।" পাশাপাশি অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমরা সব রকমের ব্যবস্থা নিচ্ছি, কিন্তু যারা (ধর্ষণকারীরা) এধরণের ঘটনা ঘটায় তারাও অনেক প্রিকশন নিয়ে এসব করে, কোথায় লুকিয়ে থাকে, কী করে, তবু সবরকমের চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।"

অন্যদিকে রাজ্যসভার তৃণমূল নেতা ডেরেক ওব্রায়েন জানিয়েছেন, সরকার যে কোনও মূল্যেই কড়া পদক্ষেপ করবে। গোটা ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের রাজনীতি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ভরসা রাখতে পারছেন না এলাকাবাসী। তাই বিক্ষুব্ধ জনতা এদিন সন্ধ্যবেলা ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সিবিআই তদন্তের দাবি তোলে বিক্ষোভকারীরা। কেন এখনও একজনকে গ্রেফতার করা হল না, পুলিশ প্রশাসন কী করছে, এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে জনতা।
শুক্রবার ভোররাতের ঘটনার পর তিনদিন বাদে আজ খুলেছে স্কুল। আতঙ্কের মধ্যেই সকালে ক্লাসে যোগ দেয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।
গণধর্ষণের প্রতিবাদে গতকালও পথে নামে ছাত্রছাত্রীরা। স্কুলের কাছেই মিছিল করে দোষীদের শাস্তির দাবিও জানায় পড়ুয়ারা। স্কুলের ছাত্রীদের পাশে সেই মিছিলে পা মেলান এলাকার অসংখ্য মানুষও।
ঘটনার পর আটজনকে আটক করা হলেও, তাদের জেরা করে বিশেষ কোনও সূত্র মেলেনি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চারজনের ছবি পাওয়া গেছে। তবে বাকিদের ছবি না মেলায় তৈরি করা হচ্ছে স্কেচ। স্কুলে কয়েকদিন আগে মেরামতির কাজ হয়। এই চারজনের মধ্যে কেউ নির্মাণকর্মী কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এরকম একটা ঘটনার পর গতকাল রাতে ফের ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে এই নদিয়া জেলাতেই। গোটা ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাকফুটে জেলা পুলিস। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।












Click it and Unblock the Notifications