নোট নিয়ে নিয়ম অমান্য চলছে স্টেশনগুলিতে, বিপাকে যাত্রীরা
নোট নিয়ে নিয়ম অমান্য চলছে স্টেশনগুলিতেও। যাত্রীরা টিকিট কাটতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। হয়রানির শিকার হচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। স্টেশনে ছাড় দিলেও কাউন্টারগুলিতে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট নেওয়া হচ্ছে না।
হাওড়া, ৯ নভেম্বর : নোট নিয়ে নিয়ম অমান্য চলছে স্টেশনগুলিতেও। খোদ রেলমন্ত্রীর নির্দেশই মানছে না রেল। নিদান না মেনে ৫০০, ১০০০ টাকার নোট নেওয়া হচ্ছে না কোনও কাউন্টারেই। যাত্রীরা টিকিট কাটতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন। রেলের সাফাই, ১০ টাকার টিকিট কেটেও ৫০০ টাকার নোট ধরাচ্ছেন যাত্রীরা। ফলে খুচরো দেওয়া নিয়ে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।
পরোক্ষে যাত্রীদের জবাব, বেশি টাকার টিকিট কাটতে এসেও ভুগতে হচ্ছে যাত্রীদের। কাউন্টারে টাকা নেওয়া হচ্ছে না। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার। চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে কাউন্টারের বাইরে। যত সময় যাচ্ছে লম্বা লাইন তৈরি হচ্ছে কাউন্টারগুলিতে। বিশেষ করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে হয়রানির সেই চিত্রটা সুস্পষ্ট।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময়ই স্টেশনগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। জরুরি পরিষবার ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় টিকিট কাউন্টারে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ রেল কাউন্টারে গিয়ে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে পারবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অন্যরকম। ৫০০ টাকা, ১০০০ টাকা নিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী- সবাই বিপাকে পড়েছেন।
পুরুলিয়া যাবেন বলে হাওড়া স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে লাইন দিয়েছিলেন অমিত চৌধুরী। তিনি তিনটি টিকিট কাটবেন। ৫০০ টাকার নোট ধরিয়েছিলেন। তথাপি তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এই সঙ্কটে পড়ে অনেকে যেতে পারছেন না গন্তব্যে। অনেকে বিনা টিকিটেই যাচ্ছেন।
জগন্নাথ এক্সপ্রেস থেকে সবেমাত্র হাওড়া স্টেশন নেমেছেন শোভনা তরফদার। তাঁর অভিযোগ, কাল রাতে ঘোষণা করেই, সকাল থেকে টাকা বাতিল, হঠকারী সিদ্ধান্ত। আমার কাছে সমস্ত ৫০০ টাকার নোট। এই মুহূর্তে কী করে বাড়ি ফিরব! ৫০০ টাকার নোট কেউই নিতে চাইছেন না। এমনই সঙ্কট তৈরি হচ্ছে খাওয়া-দাওয়াও করা যাবে না। কেউ ৫০০ টাকার চেঞ্জই দেবে না।
যত সময় যাচ্ছে, হাওড়া, শিয়ালদহে টিকিটের লাইনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। বুকিং অফিসের আধিকারিকের পক্ষেও কতক্ষণই বা ৫০০ টাকা চেঞ্জ করে দেওয়া সম্ভব। একটা সময় তো খুচরোর সঙ্কট তৈরি হবেই। তখন কী করবে রেল। রেলের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে ৫০০-১০০০ টাকা নেওয়া শুরু করলেও তাই সমস্যা মিটবে না বলে যাত্রী সাধারণের মত।
টিকিট না পেয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হবে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানিয়েছেন, এই সমস্যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অবিলম্বে সমস্যা দূর করতে নির্দেশে দেওয়া হয়েছে। ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট নিয়ে টিকিট দেওয়া হবে। তবে কতক্ষণ এই পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications