শুধু দল নয়, সংঘেও দিলীপ ঘনিষ্টদের ফেরাচ্ছে বিজেপি
শুধু দল নয়, সংঘেও দিলীপ ঘনিষ্টদের ফেরাচ্ছে বিজেপি
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মোহভঙ্গ হয়েছে বিজেপির। রাজ্যে ২০০ সিট জয়ের আশা দেখিয়েও থামতে হয়েছে ১০০ র নীচে। তাই এবার দলের পাশাপাশি সংঘেও নেতৃত্ব বদল করছে গেরুয়া শিবির। দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ২০১৯ সালের সাফল্যের কান্ডারীদের।

বঙ্গে দিল্লির দখল কমাচ্ছে সংঘ!
সম্প্রতি জানা গেছিল, হার থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্য থেকে দিল্লির ছায়া সরাচ্ছে আরএসএস। গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে বাঙালি নেতাদের৷ এতদিন পূর্বক্ষেত্র তথা পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, আন্দামানের দায়িত্বে থাকা প্রদীপ জোশিকে সরিয়ে পদ দেওয়া হচ্ছে রমাপদ পালকে। এবার জানা গেল, শুধু রমাপদ পাল নয়। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন বিদ্যুৎ মুখার্জি, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো দীর্ঘদিনের সংঘ সৈনিকরাও। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতির পদ পেতে পারেন বিদ্যুৎ মুখার্জি।

২০১৯ এ জয়-এর কান্ডারী দিলীপ-সুব্রততেই ভরসা?
এরাজ্যে সংঘ তথা বিজেপির উত্থান নিয়ে যাঁরা অল্পবিস্তর খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা প্রায় সকলেই জানেন ২০১৯ সালে বিজেপির ১৮টি সিট জয়ের পেছনে মুখ্য অবদান ছিল আরএসএসের৷ সংঘের স্বয়ংসেবকরাই মাঠে নেমে লডাইটা অনেকখানি সহজ করে দিয়েছিল বিজেপির জন্য৷ একদা সংঘ প্রচারক দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই সাফল্য পেয়েছিল দল। দিলীপের সঙ্গে যে দু'জন নেতার নাম সবার প্রথমে উঠে এসেছিল, তাঁরা হলেন বিদ্যুৎ মুখার্জি এবং সুব্রত চ্যাটার্জি। মূলত দিলীপ-সুব্রত-বিদ্যুত ত্রয়ীর তৈরি রণনীতিতেই মিলেছিল সাফল্য।

শেষ লোকসভা ভোটের পর রণনীতি বদলে ছিল বিজেপি!
লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি সিট জয়ের পরই পথ বদলায় বিজেপি। সংঘের পূর্বক্ষেত্রের দায়িত্বে আসেন প্রদীপ জোশি। তিনি বরাবরই কৈলাস বিজয়বর্গী, শিবপ্রকাশ চৌহান, অরবিন্দ মেনন ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গেরুয়া শিবির ভেবেছিল এই চারজনের মাধ্যমেই বঙ্গ বিজয় সম্ভব হবে৷ তবে বাস্তবে তা ঘটেনি, বাঙালি সেন্টিমেন্ট বুঝতে ডাহা ফেল করেছেন এই চারজন। তাই এবার পুরোনো পন্থাতেই ফিরে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেরানো হচ্ছে বিদ্যুৎ মুখার্জি, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো বাঙালি নেতাকে। এঁরা প্রত্যেকেই বহুদিন ধরে সংঘ পরিবারের সঙ্গে যুক্ত।

বিদ্যুৎ-দিলীপ রসায়ণ
দলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যায়, দিলীপ ঘোষের রাজ্য সভাপতিত্ব পাওয়ার পেছনে অন্যতম অবদান রয়েছে বিদ্যুৎ মুখার্জির। তাঁর সহায়তাতেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছিলেন দিলীপ। তাছাড়া সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সম্পর্ক বেশ ভাল দিলীপের৷ ২০২০ অবধি যতদিন সুব্রত দলের সাংগঠনিক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন, ততদিন সেভাবে কোনও সমস্যাই তৈরি হয়নি দলের অন্দরে। তবে, এখন পুরোনো সৈনিকদের ফিরিয়ে এনে বিজেপি ফের সাফল্যের মুখ দেখবে কিনা, তা অবশ্য সময়ই বলবে৷












Click it and Unblock the Notifications