বিনা অনুমতিতে কোনও কর্মসূচি নেওয়া যাবে না বিধানসভায়, নিয়ম জারি স্পিকারের, কী বললেন শুভেন্দু?
গত তিনদিন ধরে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ধর্না কর্মসূচি করেছে। বিজেপির তরফ থেকেও বিধানসভা চত্বরে ধর্না অবস্থান করা হয়। প্রতিবাদ পাল্টা প্রতিবাদে রীতিমতো বেনজির ঘটনা ঘটে রাজ্য বিধানসভায়। এবার এই কর্মসূচি ঘিরে কড়া সিদ্ধান্ত নিলেন বিধানসভার স্পিকার।
এবার থেকে আর কোনও কর্মসূচি বিধানসভায় গ্রহণ করা যাবে না। বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে একই নিয়ম বলবৎ থাকবে। পরিষ্কার এই কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকে একের পর এক ঘটনা ঘটছে রাজ্য বিধানসভায়। পরিস্থিতি আয়ত্বের বাইরে চলে যেত। এমন আশঙ্কাও করেছেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপি একে অপরের দিকে 'চোর' বলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। 'শুভেন্দু, শিশির চোর' বলে তৃণমূলের তরফ থেকে স্লোগান দেওয়া হয়। :মুখ্যমন্ত্রী মমতা চোর', 'তৃণমূলের সব চোর', এই স্লোগান বিজেপির তরফ থেকে দেওয়া হয়। বুধবার এই ঘটনা রীতিমতো সাড়া ফেলে দেয়। বৃহস্পতিবারও কার্যত একই ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রী বিধায়করা সকলেই তৈরি হয়ে এসেছিলেন। ধর্না কর্মসূচির মধ্যে ছিল থালা, বাটি, হুইসেল, ভেঁপু সহ আরও একাধিক সামগ্রী। ছিল পোস্টার, প্ল্যাকার্ড। বিজেপি ও তৃণমূল উভয় পক্ষই থালা, বাটি বাজিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। বিধানসভায় কবে এই ধরনের ঘটনা কেউ দেখেছে? তাই নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রীতিমতো রাজ্যের রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়ে যায়।
শুক্রবার আরও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে বিধানসভায়। গঙ্গাজল দিয়ে বি আর আম্বেদকরের মূর্তি ধোয়ানো হয়। তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে ধর্না কর্মসূচিতে বসেছিল। সে কারণেই বিজেপি সেই জায়গা ধুয়ে দিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। আরও বিতর্ক শুরু হয়ে যায়।
এই সব কিছু নিয়েই রীতিমতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার থেকে কোনও রাজনৈতিক দল বিধানসভার কোনওরকম কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারবে না। বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে কোনও জায়গাতেই কোনও কর্মসূচি কোনও রাজনৈতিক দল নিতে পারবে না।
এক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি চাইতে হবে। বিধানসভার স্পিকার সেই অনুমতি দিলে কর্মসূচি নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পালটা জবাব দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর কথায়, "১৪৪ ধারা এনে কার্ফু তৈরি করতে চাইছে শাসক তৃণমূল। এরা ভয় পেয়ে এসব করছে। আমি সাসপেন্ডেড। তাই বাইরে করব। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। এত ভয় কেন বিজেপিকে?"












Click it and Unblock the Notifications