বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনে কেন্দ্রকে আমন্ত্রণই নয়, বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, আশঙ্কা সরকারি আমলাদের
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৃতীয় বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী জানুয়ারি মাসে। তবে এই শিল্প সম্মেলনে আমন্ত্রণই জানানো হচ্ছে না কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রীকে।
কলকাতা, ১৯ ডিসেম্বর : রাজ্য সরকারের উদ্যোগে তৃতীয় বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী জানুয়ারি মাসে। তবে এই শিল্প সম্মেলনে আমন্ত্রণই জানানো হচ্ছে না কেন্দ্রীয় কোনও মন্ত্রীকে। তাই এইবছর নজিরবিহীনভাবে কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীই বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন না, যার প্রভাব রাজ্যের বিনিয়োগে পড়তে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।[বিশ্ব বঙ্গ শিল্প সম্মেলন ২০-২১ জানুয়ারি, উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়]
আগামী ২০-২১ তারিখ বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনের দিন স্থির হয়েছে। তবে এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোনও আমন্ত্রণপত্রই পাঠানো হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় যেভাবে আগ্রাসী মনোভাব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তাতে সম্ভবত কেন্দ্রকে আমন্ত্রণই দেওয়া হবে না বলে প্রায় নিশ্চিত সরকারি আমলারা।

নবান্ন সূত্রের খবর, তবে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন সরকারি আমলাদের একটা বড় অংশই। তাদের মতে, যদি এমনটা হয় তাহলে বাংলার সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে ভারত ও ভারতের বাইরের শিল্পপতিদের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী বাংলাকে বিনিয়োগে আদর্শ রাজ্য বলে যে তুলে ধরতে চাইছেন, সেই ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না, সেই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নবান্ন সূত্রের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি আমলাদের একটা বড় আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ করা হলে নরেন্দ্র মোদীর নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করতে পারেন এই মঞ্চকে ব্যবহার করে। অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল যেভাবে এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন তাতে স্বাভাবিকভাবেই মমতা চাইবেন না রাজ্যের মঞ্চ ব্যবহার করেই মোদীর ভাল কাজেক ঢাক পেটানো হেক।
উল্লেখ্য প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় বছরই বিশ্ববঙ্গ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, সঙ্গে বেশ কয়েকজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এবার তা না হলে স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে বলা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারি এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কথায়, "যে কোনও রাজ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ছাড়পত্র, অনুমোদন বা সংযুক্তির প্রয়োজন হয়। বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের দুর্দশাই প্রতিফলিত হবে। যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলার ভাবমূর্তিতে নেচিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য।"












Click it and Unblock the Notifications