সিপিএমে গণতন্ত্র নেই, দলে ভিড় ভাঁড়েদের, তোপ লক্ষ্মণ শেঠের

হলদিয়া মেডিকেল কলেজ ঘিরে লক্ষ্মণ শেঠ অনেক দুর্নীতি করেছেন, এই অভিযোগে এখন তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে সিপিএম। কিছুদিন আগে সিপিএম নেতা রবীন দেব, মৃদুল দে, নৃপেন চৌধুরী, চক্রধর মেইকাপ তদন্তের কাজে হলদিয়া গেলে লক্ষ্মণবাবুর অনুগামীরা তাঁদের হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। তার পর থেকে দু'তরফে কার্যত স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। রবিবার রবীন্দ্র সদনে রেজ্জাক মোল্লা কর্তৃক আয়োজিত একটি সভায় এসেছিলেন তিনি। সেখানেই তোপ দাগেন তমলুকের একদা মুকুটহীন বাদশা।
লক্ষ্মণ শেঠ বলেছেন, "আমাদের দলে গণতন্ত্র নেই। দলে গণতন্ত্র না থাকলে আমলাতন্ত্র, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা জন্ম নেয়। এটা অনিবার্য। এই কারণেই সোভিয়েত রাশিয়ার পতন হল। স্তালিনবাদ নস্যাৎ হয়ে গেল। তার পর অতি গণতন্ত্র নিয়ে আবির্ভাব হল গর্বাচেভের। নিজের দল নিজেই তুলে দিলেন।" এখানেই শেষ করেননি লক্ষ্মণ শেঠ। বলেছেন, "স্বৈরাচারী যদি নেতৃত্বে থাকে, তা হলে তাকে ঘিরে ভাঁড়েরা ভিড় জমায়। কিন্তু, শেক্সপিয়রের কিং লিয়ারকেও বাঁচাতে পারেনি ভাঁড়, মোসাহেবের দল।"
"স্বৈরাচারী থাকলে তাকে ঘিরে ভাঁড়েরা ভিড় জমায়"
আপনার দলে কে কিং লিয়ার, কে-ই বা ভাঁড়? মুচকি হেসে লক্ষ্মণবাবুর জবাব, "আপনারা বুঝে নিন।" ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কিং লিয়ার হলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিং লিয়ার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের সৃষ্টি একটি চরিত্র। এই রাজার কাজকর্মের জেরে দেশ ছারখার হয়ে গিয়েছিল। কিং বা রাজা লিয়ার ভালোবাসতেন বিদূষক, মোসাহেবদের সঙ্গে সময় কাটাতে। অর্থাৎ বুদ্ধবাবুর সঙ্গে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে যাঁরা রয়েছেন, সেই রবীন দেব, মৃদুল দে প্রমুখকে 'ভাঁড়' বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। আর গর্বাচেভ বলতে বুঝিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুকে।
লক্ষ্মণবাবুর আরও ব্যাখ্যা, "দলের নির্দেশিকা ছিল, যাঁরা আত্মগোপনে থাকবেন বা মিথ্যা মামলায় ফেঁসে গিয়েছেন, তাঁরা রাজ্য সম্মেলনে হাজির না থাকলেও পদ থেকে সরানো যাবে না। অথচ আমার ক্ষেত্রে সেই নীতি লঙ্ঘন করা হয়েছে। সিপিএম বলে আমাদের দেশে বুর্জোয়া ব্যবস্থা কায়েম আছে। অথচ দেখুন, বুর্জোয়া বিচার ব্যবস্থাতেও তদন্তের আগে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয় না। আর আমাকে অন্যায়ভাবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।"
লক্ষ্মণ শেঠের তোপের মুখে পড়েও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি সিপিএম। লোকসভা ভোটের আগে আবার লক্ষ্মণবাবু কী বেফাঁস বলে বসেন, সেই ভয়ে এখন কাঁটা হয়ে রয়েছেন সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব। কারণ তিনি মুখ খুললে নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে অনেক কীর্তিকলাপই জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications