রাজ্যে ভোটের ঢাকে কাঠি, সম্মানের লড়াই জিততে হঠাৎ করেই জোট-জল্পনা চরমে

নির্বাচনী ঢাকে কাঠি পড়ে গেল রাজ্যে। শুরু হয়ে গেল জোট জল্পনা। কে কোন অঙ্কে ভোটে লড়বে, তা নিয়ে তৎপরতা চরমে।

পঞ্চায়েত নির্বাচন এখনও অনেক দূরে, তার আগেই নির্বাচনী ঢাকে কাঠি পড়ে গেল রাজ্যে। শুরু হয়ে গেল জোট জল্পনা। কে কোন অঙ্কে ভোটে লড়বে, তা নিয়ে তৎপরতা চরমে। আর মাত্র ২৫দিন পরই ভোট। এই সম্মানের যুদ্ধে হারতে চায় না কেউই। পঞ্চায়েতের আগে অ্যাসিড টেস্টের লক্ষ্যে যে যার অস্ত্র শান দিতে শুরু করেছে। যে যার মতো ঘুঁটি সাজাচ্ছে।

রাজ্যে ভোটের ঢাকে কাঠি, জোট-জল্পনা চরমে

নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে দিয়েছে আগামী ২১ ডিসেম্বর সবং উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতির ছেড়ে যাওয়া আসনে ভোট বলে কথা। তাই লড়াই তো থাকবেই। মানসবাবু নিজে এখন নাম লিখিয়েছেন তৃণমূলে। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা দেওয়াতেই এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন।

এই আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের দখলে ছিল। বিগত ২০১৬ নির্বাচনেও তৃণমূল ঝড়ে বাম-কংগ্রেস জোট দখলে রেখেছিল আসনটি। এই আসন থেকে বিধায়ক হয়েই বিধানসভায় গিয়েছিলেন মানস ভুঁইয়া। তাই কংগ্রেস চাইছে যে করেই হোক আসনটি ধরে রাখতে। আর তৃণমূল চাইছে সম্মান রক্ষায় এই আসনটি জিততে। কেননা জয়ী বিধায়ক এখন তাঁদের দলে।

এই অবস্থায় কংগ্রেস প্রয়োজনে বামফ্রন্টের সঙ্গে পুনরায় জোট করতে মুখিয়ে রয়েছে। তাহলে এই আসনটি একপ্রকার নিশ্চিত অর্থেই ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করছে প্রদেশ নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান হাইকম্যান্ডের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা বলেছেন।

তবে সিপিএম এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে লড়াই করার ব্যাপারে কতটা সহমত পোষণ করবে, সেটাও বড় ব্যাপার। আবার কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সঙ্গে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে সম্পর্ক, তাতে এই আসনটি নিয়ে তৃণমূলও কী করবে, তা নিশ্চিত নয়।

এমনও হতে পারে বৃহত্তর স্বার্থে কংগ্রেসকে এই আসনটি ছেড়েও দিতে পারে তৃণমূল। তখন লড়াই মূলত দাঁড়াবে নিয়মরক্ষার। কংগ্রেস বনাম সিপিএম লড়াই হবে সেক্ষেত্রে। কেননা বিজেপি এখানে খুব বড় ফ্যাক্টর নয়। তবে সম্প্রতি অধিকারী শিবির থেকে প্রাক্তন বিধায়ক রাধাকান্ত মাইতিকে ভাঙিয়ে এনেছেন মুকুল রায়। তাঁকে সামনে রেখে বিজেপি এই লড়াইয়ে নামতে পারে। তৃণমূলের একাংশকে ভাঙিয়ে নিয়ে লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বিজেপি শিবির।

পরিস্থিতি যা, তাতে এই কেন্দ্রে এবার চতুর্মুখী লড়াইয়েরই সমূহ সম্ভাবনা থাকছে। পঞ্চায়েতের আগে সব দলই চাইছে নিজেদের ক্ষমতা যাচাই করে নিতে। সেইসঙ্গে এই আশঙ্কাও থাকছে, ভোটের ফলে মুখ থুবড়ে পড়া মানেই পরবর্তী ক্ষেত্রে অর্থায আসন্ন পঞ্চায়েতে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।

সমীকরণ যা-ই দাঁড়াক, নির্বাচন অবশ্যম্ভাবী। এবং তা হচ্ছে ২১ ডিসেম্বর। ফলাফল প্রকাশ হবে ২৪ ডিসেম্বর। ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রকাশের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। তার আগে এই বিধানসভা ক্ষেত্রের ছবি স্পষ্ট হয়ে যাবে। সবং ছাড়াও নোয়াপাড়া বিধানসভা ও উলুবেড়িয়া লোকসভা কেন্দ্রের ভোটচিত্র এখনও স্পষ্ট হয়নি। দু-টি কেন্দ্রেই নির্বাচিত প্রতিনিধির প্রয়াণে ফের ভোটগ্রহণ হবে। তবে আগামী বছরের জানুয়ারিতেই তা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+