গান নিয়ে নতুন বিতর্ক, দার্জিলিং এর স্কুলে বাধ্যতামূলক নয় রাজ্য সঙ্গীত
দার্জিলিং এর স্কুলগুলোতে প্রার্থনার সময় রাজ্য সঙ্গীত গাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এমনই ঘোষণা করল পাহাড়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা স্বশাসিত সংস্থা গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা জিটিএ।
গত ৬ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ নির্দেশ জারি করে জানায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি অবশ্যই গাওয়া হবে "বাংলার মাটি বাংলার জল", রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত রাজ্য সঙ্গীত। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে লেখা হয়েছিল এই গান।

কিন্তু তার ঠিক পরের দিন, ৭ নভেম্বর, জিটিএ-র সচিব পি ডি প্রধান জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানান পাহাড়ের বহু স্কুলে বহুদিন ধরেই আছে নিজস্ব প্রার্থনাসঙ্গীত ও নেপালি ভাষায় ঐতিহ্যবাহী সুরের চর্চা। জাতীয় সঙ্গীত অবশ্যই থাকবে, তবে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বজায় রেখে আগের মতো অনুষ্ঠান চালানো হবে।
চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়
"জিটিএ অঞ্চলের প্রতিটি স্কুলে ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান রেখে যেভাবে দীর্ঘদিন ধরে সকালের প্রার্থনা চলেছে, সেটিই বজায় থাকবে।"
ডব্লিউবিবিএসই সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে জিটিএ অঞ্চলের স্কুলগুলিকে এই বিধান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ এনেছৈ। দার্জিলিং এর বিধায়ক বিজেপির নিরাজ তামাং জিম্বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য
"ভারতীয় সংবিধান বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে সম্মান করে, কাউকে এমন কিছু গাইতে বা প্রতীক মানতে বাধ্য করা যায় না যা তার সাংস্কৃতিক পরিচয়, ভাষা বা বিশ্বাসের পরিপন্থী।"
যদিও এর আগে রাজ্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থনাসঙ্গীত বাধ্যতামূলক ছিল না জাতীয় সঙ্গীত ছাড়া।
পাহাড়ে এখন সঙ্গীত নয়, পরিচয় ও সংস্কৃতি রক্ষার প্রশ্নই হয়ে উঠেছে বড় আলোচ্য বিষয়। রাজ্য কি বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি দেবে, নাকি একতার নামে একরূপতা চাপাবে? তবে সেই বিতর্ক এখনই থামার নয়।












Click it and Unblock the Notifications