জলবায়ু পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা, পরিসংখ্যানে সবার উপরে স্থান বাংলার
জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। তার প্রভাবে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সম্প্রতি যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতে ভারত তথা বাংলার পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তন সাংঘাতিক রূপ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। তার প্রভাবে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সম্প্রতি যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তাতে ভারত তথা বাংলার পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তন সাংঘাতিক রূপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। কখনও বন্যা, কখনও ঝড়, আবার কখনও খরা লেগেই রয়েছে। গত তিন বছরের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা বাংলার পক্ষে সুখকর নয়।

১
সম্প্রতি ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের পরিস্ংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছিল সংসদে। সেখানে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা বাংলারা পক্ষে সুখকর নয়। তিন বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৮১১ জনের। এই পরিসংখ্যান দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
২
অগাস্ট মাসে লোকসভায় এই পরিসংখ্যান পেশ করা হয়েছিল। তিন বছরে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বলি হয়েছিল সর্বোচ্চসংখ্যক। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। গত তিন বছরে শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর শিকার হয়েছেন ৯৬৪ জন। ২০২১-এর এপ্রিল মাসের পর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও দুর্যোগ চলছে। ঝড়-বৃষ্টির দাপটে প্রাণহানিও ঘটেছে। তা এই পরিসংখ্যানের বাইরে।
৩
কিন্তু কেন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘটা? বিশেষজ্ঞদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তার প্রমাণও মিলেছে প্রচতি মুহূর্তেই। এই পরিসংখ্যান পশ্চিমবঙ্গের পরেই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সেখানে ৯১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তৃতীয় স্থানে কেরলে। কেরলে মৃত্যু হয়েছে ৭০৮ জনের।
৪
এই রিপোর্টে ১ জুন থেকে ১ অগাস্ট পর্যন্ত পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। দু-মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের কারণে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশাতে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। তারপর এবার বর্ষার প্রকোপে বন্যাও প্রাণ কেড়েছে কতিপয় মানুষের। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে।
৫
২০২০ সালে আম্ফানের মতো ভয়ানক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছে বাংলার উপকূলে। এই দুর্যোগে মৃত্যু হয়েছে ৯৮ জনের। শুধু আম্ফান নয়, তার আগে ২০১৯-এ বুলবুলের হানাও প্রাণ কেড়েছিল অনেক মানুষের। ২০১৯-এর বুলবুল, ২০২০-র আম্ফান আর ২০২১-এর ইয়াসের ফলে মোট ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সার্বিকভাবে তিনটি সাইক্লোনই প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে বাংলায়।
৬
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতাও বাংলার উপকূলে বেড়েছে। মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে যে সমস্ত নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে, তার বেশিরভাগই ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের প্রকোপ এখন ওড়িশা-বাংলা উপকূলের দিকেই বেশি। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাশুল গুনতে হচ্ছে ভারত তথা বাংলাকে। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের পাশাপাশি আরব সাগরেও তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণি, তা বেশিরভাগই পশ্চিম উপকূলে হানা দি্চ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications