Narendra Modi: আরামবাগের মেজাজ উধাও কৃষ্ণনগরে, রক্ষণাত্মক বক্তব্য মোদীর, নেপথ্যে অন্য সমীকরণ?
শনিবার নরেন্দ্র মোদীর বঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিন। হুগলীর আরামবাগের পর নদীয়ার কৃষ্ণনগরে প্রথমে সরকারি এরগুচ্ছ প্রকল্পের শিল্যানাস করলেন, তারপরেই দলীয় জনসভায় বক্তব্য রাখলেন। দুই দিনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি এক হলেও ভাষণে কিন্তু থাকল অনেকটাই পার্থক্য। প্রথম দিনে দলীয় জনসভা থেকে যতটা সুর চড়িয়েছিলেন মোদী, দ্বিতীয় দিনে তৃণমল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সুর ততটা উত্তমে চড়ালেন না মোদী।
আরামবাগের জনসভা থকে সন্দেশখালি ইস্যু থেকে তৃণমূল সরকারের দুনীর্তি সব ইস্যুতে বিধংস্বী মেজাজে ব্যাট করেন মোদী। শনিবার চৈতন্য মহাপ্রভুর জেলার মোদীর মুখ তীব্র টিএমসি বিরোধী তথা আক্রমণের কথা শুনতেই কৃষ্ণনগরের মাঠ ভরিয়ে ছিলেন বিজেপির কর্মী থেকে সমর্থকরা। প্রায় ত্রিশ মিনিটের ভাষণে রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করলেন, কিন্তু নীরবতাও বজায় রাখলেন মমতাকে নিয়ে।

আরাগবাগের মোদী বলেছিলেন,'অপরাধ ও দুর্নীতির নতুন মডেল তৈরি করেছে তৃণমূল। অপরাধীদের আশ্রয়ও দেয় তারা। শিক্ষক নিয়োগ,পুরনিয়োগ ও গরিবের রেশন নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে রাজ্যে। গরিবের জমি দখল, চিটফান্ড, সীমান্তে পশু পাচার- দুর্নীতির কোনও দিকই বাদ দেয়নি তৃণমূল। তৃণমূল নেতাদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নোটের পাহাড়। এত নোট আগে দেখেছেন? তার উপরে এখানকার সরকার, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে বাধা দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের দিকে ইঙ্গিত করে মোদী আরামবাগে নিজের বক্তব্যে বলেছিলেন, বাংলার জনতা মুখ্যমন্ত্রী দিদির কাছে জানতে চাইছেন, কিছু সংখ্যক ভোট কি সন্দেশখালির মা-বোনেদের সম্মানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ? এতে লজ্জা হওয়া উচিত। ' কিন্তুত শনিবার সন্দেশখালি ইস্যুতে মুখ খুললেন তবে তৃণমূলের দুনীর্তি নিয়ে বিধংস্বী মেজাজে সুর চড়ালেন না। বরং কিছুটা ঘুরিয়ে কটাক্ষ করলেন।
কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে অনেকবেশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা তুলে ধরলেন। বাংলার জন্য 'গ্যারান্টিপূরণ' হয়েছে বলে দাবি করলেন মোদী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, কল্যাণী এমস উদ্বোধন যাতে না হয়, তার চেষ্টা করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের তোলাবাজ এবং মাফিয়ারা টাকা খাওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর। বিজেপির শাসনকালে রাজ্যে অনেক মেডিক্যাল কলেজ খুলেছে বলেও মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী।
শুধু তাই নয় সিএএ, মতুয়া, মহুয়া মৈত্র ইস্যুতেও একেবারেই নীরব থাকলেন মোদী। ফলে দ্বিতীয় দিনের মোদীর ভাষণে সেই চেনা মেজাজটাই যেন উধাও।ভারসাম্যের রাজনীতি নাকি অন্য সমীকরণ? উত্তর দেবে সময়ই।












Click it and Unblock the Notifications