বিয়ের পর ঠিকানা বদল বা বানানে সামান্য ফারাকেই ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা! নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার
ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোরে দলীয় বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) সঙ্গে বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ে হয়ে অন্য বাড়িতে যাওয়া, ডিলিমিটেশনে ঠিকানা বদল, এমনকি বাংলা ও ইংরেজি বানানে সামান্য অমিল থাকলেই বৈধ ভোটারদের নাম নির্বিচারে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে স্পষ্ট ক্ষোভ "এই অধিকার কে দিল?"
মমতা বলেন, ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশের পর যে শুনানি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে চরম বিশৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' দেখিয়ে হাজার হাজার ভোটারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। ২০০২ সালের পুরনো তথ্য, ভুল ম্যাপিং ও অপরিকল্পিত অ্যাপ ব্যবহারের ফলে প্রকৃত ভোটাররাই সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এসআইআর এর দ্বিতীয় পর্যায়ে কীভাবে কাজ করতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে দেন তৃণমূল নেত্রী। মৃত বা স্থানান্তরিত বলে চিহ্নিত ভোটারদের ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি যাচাই, বাদ পড়া ভোটারদের ফর্ম ৬ ও ৮ জমা দেওয়ায় সহায়তা, ও শুনানির সময় যাতে কেউ অহেতুক হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, বাইরের রাজ্য থেকে লোক এনে বাংলার ভোটার তালিকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, "বাংলার মানুষ বাংলায় থাকবে, কাজ করবে, পরিবার নিয়ে থাকবে তবু তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।" বিয়ের পর মেয়েদের শ্বশুরবাড়ি যাওয়াকে অজুহাত করে নাম কাটার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এরা কি সমাজের বাস্তবটাই বোঝে না?"
সভা চলাকালীন মাইক বিভ্রাট নিয়েও অন্তর্ঘাতের অভিযোগ আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন এবার কোনও পিকনিক নয়, একমাত্র লক্ষ্য ২০২৬ এর ভোট। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, "ভয় দেখিয়ে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। বৈধ ভোটারদের পাশে দাঁড়িয়ে এই লড়াই চলবেই।"












Click it and Unblock the Notifications