শিক্ষিকার নগ্ন শব উদ্ধার, গণধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ

এলাকার মানুষ জানান, হিঙ্গলগঞ্জে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন পরিচালিত একটি পাঠশালা রয়েছে। এদের কাজ হল স্কুলছুট গরিব শিশুদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে পড়ানো। এই পাঠশালাতেই বাচ্চাদের পড়াতেন ওই শিক্ষিকা। খুব জনপ্রিয় ছিলেন পড়ুয়া মহলে। তাঁর স্বামী বেলুড় মঠের কর্মী। একমাত্র ছেলে কলেজে পড়ে। কেউ পাঠশালায় না এলে ওই দিদিমণি বাড়ি থেকে তাকে ডেকে নিয়ে আসতেন।
সোমবার সকালে ক্লাসের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও ওই শিক্ষিকা আসেননি। সাধারণত কোনও কারণে না আসতে পারলে তিনি আগাম খবর দিয়ে দিতেন মঠের মহারাজ স্বামী দেবব্রতানন্দকে। এদিন কোনও খবর না আসায় মহারাজ চিন্তিত হয়ে পড়েন। কয়েক জন পড়ুয়াকে পাঠান দিদিমণির খোঁজ আনতে। কচিকাঁচারা প্রথমে বাড়ির বাইরে থেকে 'দিদিমণি' বলে ডাক দিলেও সাড়া মেলেনি। বাড়ির দরজা বাইরে থেকে আটকানো ছিল। দরজা খুলে তারা ভিতরে ঢুকতেই দেখে বীভৎস দৃশ্য। ঘরের মেঝেতে চাপ চাপ রক্ত পড়ে আছে। তার মাঝে ওই শিক্ষিকা। এটা দেখেই তারা চিৎকার করতে শুরু করে। ছুটে আসে আশপাশের লোকজন। পুলিশে খবর যায়। পুলিশ এসে শব উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী চম্পা মণ্ডল, সুভাষিণী মণ্ডলরা জানান, "দিদিমণিকে আমরাও খুব ভালোবাসতাম। ওঁর কেউ এই পরিণতি করতে পারে কল্পনাও করতে পারিনি। গায়ে শুধু একটা ব্লাউজ ছাড়া আর কিছু ছিল না। তাও সেটা সামনে থেকে ছেঁড়া ছিল। গালে, গলায় জায়গায় জায়গায় যেন কেউ মাংস খুবলে খেয়েছে। মনে হয়, দিদিমণিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। উনি বাধা দিয়েছিলেন বলেই এই অবস্থা করেছে বদমাশের দল।"
মঠের মহারাজ দেবব্রতানন্দ বলেন, "আমার সন্দেহ, ওঁকে গণধর্ষণ করার পর খুন করা হয়েছে। যারা ধর্ষণ করেছে, তাদের হয়তো উনি চিনতেন। তাই জানাজানির ভয়ে দুষ্কৃতীরা খুন করে পালিয়েছে। এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।" পুলিশ অবশ্য এখনই গণধর্ষণের কথা মানতে চায়নি। তাদের বক্তব্য, তদন্ত শুরু হয়েছে। তাতেই সব পরিষ্কার হবে।












Click it and Unblock the Notifications