আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে রহস্য ঘনীভূত, পুড়ে যাওয়া গুদাম থেকে উদ্ধার ২৭টি দেহাংশ
আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ছ'দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও রহস্যের জট পুরোপুরি খোলেনি। দুর্ঘটনার রাতে গুদামে থাকা অন্তত ২৭ জনের খোঁজ মেলেনি। শনিবার পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৭টি দেহাংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এই দেহাংশগুলি কতজনের, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) এ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রথমে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তার পরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের রক্তের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ডিএনএ ও রক্তের নমুনা মিললে সংশ্লিষ্ট পরিবারের হাতে দেহাংশ তুলে দেওয়া হবে।

বারুইপুর জেলার পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানান, "যত দ্রুত সম্ভব পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা চলছে।" তবে দেহাংশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় শনাক্তকরণে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, শুক্রবার আনন্দপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ও আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন। রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে শুক্রবারই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই গুদামের ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট ও ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে। ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন দ্বিতীয় গুদামটির মালিক গঙ্গাধর দাস। সব মিলিয়ে আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিনে।












Click it and Unblock the Notifications