মুকুল রায় কেন বিজেপি ছাড়লেন, তৃণমূলে যোগদানের পর উঠে আসছে মূলত ৪ কারণ
মুকুল রায় কেন বিজেপি ছাড়লেন, তৃণমূলে যোগদানের পর উঠে আসছে মূলত ৪ কারণ
মুকুল রায় ফিরলেন তৃণমূলের সংসারে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের দলবদলে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল। এবার পদ্মফুলের টিকিটে তিনি প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু তারপর একমাস যেতে না যেতেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন। কিন্তু কেন তাঁর বিজেপি ত্যাগ, কেন চার বছর পর তাঁর ঘরওয়াপসি।

তিনটি কারণেই মুকুল রায় বিজেপি ছাড়লেন
মুকুল রায়ের বিজেপি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে একটা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে, কেন তিনি বিজেপি ছাড়লেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মুকুলের বিজেপি ছাড়ার চারটি কারণ। ২০২১ নির্বাচনের আগে ও পরে ঘটা চার কারণেই মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের দিকে পা বাড়ালেন ফের।

মুকুল ব্রাত্য রইলেন ২০২১-এর মহাযুদ্ধে!
মুকুল রায় বিজেপি ছাড়ার প্রথম কারণ- তাঁকে এবার নির্বাচনে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন তাঁর নেতৃত্বে হয়েছিল। সেখানে সাফল্যও মিলেছিল। কিন্তু দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পরও তিনি ব্রাত্য রইলেন ২০২১-এর মহাযুদ্ধে। তা একেবারেই ভালোভাবে নেননি।

মুকুল বিজেপিতে পদ পেয়েছিলেন, গুরুত্ব পাননি
বিজেপিতে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর মুকুল রায় দলীয় কোনও পদ পেয়েছিলেন। তাঁকে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পদের যে কোনও মূল্য নেই, কোনও গুরুত্ব নেই, তা তিনি বুঝেছিলেন পদপ্রাপ্তির পরই। তাঁকে দল কোনও কাজে লাগাচ্ছে না বলে বারবার অভিযোগ করেছেন। এমনকী নির্বাচনেও তাঁকে কোনও কাজে লাগানো হয়নি।

জিতেও তাই মন খারাপ ছিল মুকুল রায়ের
২০২১-এর নির্বাচনে তাঁকে কোনও গুরুদায়িত্ব না দিয়ে কৃষ্ণনগর উত্তরে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। একটা কেন্দ্রে বন্দি করে দেওয়া হয়েছিল। গোটা নির্বাচনে তাঁকে সেভাবে দেখা যায়নি। বিজেপিতে এই বন্দিদশা তিনি ভালোভাবে নেননি। জিতেও তাই মন খারাপ ছিল মুকুলের। বরাবর নেপথ্যে থেকে সংগঠনের কাজ করতে পছন্দ করে এসেছেন মুকুল রায়। বিজেপিতে কাজ ও দায়িত্ব না পাওয়াই তাঁকে তৃণমূলে ফিরিয়ে নিয়ে এল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনের পরেও যোগ্য সম্মান পাননি মুকুল
মুকুলের বিজেপি ছাড়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনের পরেও তাঁকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। তিনি ব্রাত্য রয়ে গিয়ছেন বিধানসভায়। তাঁকে বিরোধী দলনেতা করা হয়নি, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটিতেও তিনি তাকবেন কি না নিশ্চিত ছিল না। আবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব তাঁকে দিয়ে করানো হয়েছিল বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে। এহেন ঘটনাবলীও তাঁর বিজেপি ছাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

বিজেপিতে শুভ্রাংশুর ভবিষ্যৎ নেই বুঝেই
মুকুলের বিজেপি ছাড়া ও তৃণমূলে ফেরার আর একটি বড় কারণ হল পুত্র শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা। বিজেপিতে শুভ্রাংশুর কোনও জায়গা হয়নি এতদিনেও। মুকুল রায় জিতেও হেরেছেন শুভ্রাংশু রায়। এছাড়া বিজেপি তাঁকে কোনও কাজে লাগায়নি এতদিন। তাই পুরনো দলে ফিরেই শুভ্রাংশুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শক্তপোক্ত করতে চেয়েছেন মুকুল।

বঙ্গ নেতৃত্বের সঙ্গে বনিবনা ছিল না মুকুলের
আর মুকুল রায়ের বিজেপি ত্যাগের আর একটি বড় কারণ, বিজেপির সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা। তারপর বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কোনও বনিবনা ছিল না। বারবার দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে। কখনই উভয়কে এক হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে দেখা যায়নি। কৈলাশ বিজয়বর্গীয় মধ্যস্থতা করেছিলেন, এখন তিনিও নেই। মুকুল-কৈলাশ জুটি ভেঙে যাওয়ার পর তাই ফের জুটি বাঁধলেন মমতা-মুকুল।












Click it and Unblock the Notifications