মুকুলকে বাদ দিয়েই কেন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা বিজেপির, ভোটের মুখে জল্পনার পারদ তুঙ্গে
মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে দলে যোগ দেওয়ার পরই জোয়ার এসেছিল বিজেপিতে। তারপর দু-দুটি নির্বাচনে মুকুল দেখিয়েছেন তাঁর ক্ষমতা। এবার ২০২১-এ পরিবর্তনের যুদ্ধে নামার আগে সেই মুকুলই চলে গেলেন ব্রাত্যের তালিকায়।
মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে দলে যোগ দেওয়ার পরই জোয়ার এসেছিল বিজেপিতে। তারপর দু-দুটি নির্বাচনে মুকুল দেখিয়েছেন তাঁর ক্ষমতা। এবার ২০২১-এ পরিবর্তনের যুদ্ধে নামার আগে সেই মুকুলই চলে গেলেন ব্রাত্যের তালিকায়। বাংলার নির্বাচনের দায়িত্ব এবার অমিত শাহ নিজের হাতে রেখেছেন। এরপর প্রার্থী নিয়ে আলোচনাতেও মুকুলকে ডাকেননি তিনি।

মুকুল রায়কে রাখা হয়নি প্রার্থী নিয়ে আলোচনায়
বাংলায় ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। সমস্ত রাজনৈতি দলই ব্যস্ত যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে। সেইমতো বিজেপিও দিল্লিতে বৈঠকে বসেছেন। কিন্তু সেই বৈঠকে ঠাঁই হয়নি 'বাংলার চাণক্য' বলে অভিহিত মুকুল রায়। দিলীপ ঘোষকে ডেকে আলোচনা করা হয়েছে, কিন্তু মুকুল রায়কে রাখা হয়নি। রাখা হয়নি শুভেন্দু অধিকারী বা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

'সঠিক সময়ে জায়গা ছাড়তে শিখতে হয়'
সম্প্রতি মুকুল রায় মন্তব্য করেছিলেন, সঠিক সময়ে জায়গা ছাড়তে শিখতে হয়। তাঁর এবার জায়গা ছাড়ার সময় এসেছে। মুকুলের এই মন্তব্য নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। এরপর থেকে মুকুল রায়কে ফের নিস্ক্রিয় লাগতে শুরু করে। সেভাবে সক্রিয় রূপে দেখা যায়নি মুকুল রায়কে। তারপর আবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপির বৈঠকে ডাকা হল না তাঁকে।

মুকুল রায়ের মতো নেতা কেন ব্রাত্য আলোচনায়
কিন্তু কেন মুকুল রায়ের মতো নেতাকে প্রার্থী নিয়ে আলোচনায় ডাকা হল না? যিনি আগের দুটি নির্বাচনে বিজেপিকে আশাতীত সাফল্য এনে দিয়েছেন, বিজেপিকে বাড়িয়ে বাংলায় তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো জায়গায় এনেছেন, তাঁকেই বাইরে রেখে কেন নির্বাচনে যেতে চলেছে বিজেপি? তবে কি মুকুলের কাজ ফুরিয়েছে বিজেপিতে। আর কিছু তাঁর দেওয়ার নেই!

মুকুলকে দিয়ে তৃণমূলকে ভাঙা হয়েছে
মুকুল রায় বিজেপিতে আসার পর থেকেই তাঁকে দিয়ে তৃণমূলকে ভাঙা হয়েছে। প্রথম থেকেই টার্গেট ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দু অধিকারীকে অবশেষে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে সমর্থ হয়েছে বিজেপি। তারপর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পেয়েছে গেরুয়া শিবির। আর তাঁদের সঙ্গে আরও বিধায়ক-নেতা-নেত্রীরা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।

তৃণমূলকে হারানোর মতো রসদ পেয়ে
এরপর বাংলায় তৃণমূলকে হারানোর মতো রসদ পেয়ে বিজেপি মুকুল রায়কে আর সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ২০১৯-এ যেমন মুকুল রায়কে মাথায় রেখে বঙ্গে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছিল বিজেপি, এবার ২০২১-এর বিধানসভায় তা হয়নি। অমিত শাহ নিজের কাঁধেই রেখেছেন সেই দায়িত্ব। ফলে তৃণমূল ভাঙানো ছাড়া মুকুল রায় আর কোনও কাজ নেই বিজেপিতে।

অমিত শাহের ডাক না পাওয়ায় জল্পনা তুঙ্গে
কিছুদিন আগে দিল্লিতে বিজেপির বৈঠকে মুকুল রায় বলেছিলেন, তঁকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। সেই অভিযোগ জানানোর পরও কিন্তু মুকুলকে বিশেষ কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আর তারপরই মুকুল জায়গা ছাড়ার মন্তব্য করেছিলেন। ফলে ভোটের মুখে জল্পনা বেড়েছে। এবার অমিত শাহের ডাক না পাওয়া রাজনৈতিক মহলে আরও পারদ চড়াল।












Click it and Unblock the Notifications