মুকুল আরও ক্ষমতাধর হয়ে উঠলেন! তৃণমূলের ভাঙন ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ একুশের আগে

২০১৯-এর মুকুল রায় আর ২০২০-র মুকুল রায়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তিনি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তাঁর দুই হাতেরই শক্তি বেড়েছে।

২০১৯-এর মুকুল রায় আর ২০২০-র মুকুল রায়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তিনি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। তাঁর দুই হাতেরই শক্তি বেড়েছে। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য কমিটি গঠনের পর তিনি রণসাজে সজ্জিত হয়ে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আসরে নামতে চলেছেন। এবার তাঁকে ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ তৃণমূল কংগ্রেসের।

২০২১-এর আগে কী হবে, জল্পনা তুঙ্গে

২০২১-এর আগে কী হবে, জল্পনা তুঙ্গে

২০১৯-এর লোকসভার আগে ও পরে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়েই ত্রাহি ত্রাহি পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছিলেন। শেষমেশ তৃণমূলের ভাঙ ঠেকাতে প্রশান্ত কিশোরকে আনতে হয়। মুকুলও নিজেকে গুটিয়ে নেন। আর ভাঙনের পথে যাননি তিনি। কিন্তু ২০২১-এর আগে কী হবে, তা নিয়েই এখন ঘোরতর জল্পনা চলছে।

কম বড় খেলাড়ি নন মুকুল!

কম বড় খেলাড়ি নন মুকুল!

মুকুল রায় কংগ্রেসে এবং তৃণমূলের প্রথম দিকেও দ্বিতীয় সারিতে ছিলেন। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট থেকেই তিনি নিজডেকে চেনাতে শুরু করেন। বুঝিয়ে দেন তিনিও কম বড় খেলাড়ি নন। ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তৃণমূলের হয়ে সমস্ত নির্বাচনে তিনিই ছিলেন দায়িত্বে। আর প্রতিটিতেই তিনি জয়ের কড়ি জোগাড় করে দিয়েছিলেন।

তৃণমূলকে ঝাঁঝরা করে দেওয়াই লক্ষ্য

তৃণমূলকে ঝাঁঝরা করে দেওয়াই লক্ষ্য

সেই হিসেবে দেখতে গেলে ২০১৭-য় মুকুলের দলববদলের পর মুকুল বিহীন পূর্ণ নির্বাচন তৃণমূল দুটি লড়েছে। দুটিতেই তৃণমূল আশাতীত সাফল্য পায়নি। উল্টে বিজেপিকে কাঙ্খিত সাফল্য দিয়ে চলেছেন তিনি। হাতের তালুর মতো চেনা তৃণমূলকে ভিতরে ভিতরে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেই তিনি হাসিল করে নেন জয়।

এক ঝটকায় ১৮ সাংসদ! মুকুলের মার

এক ঝটকায় ১৮ সাংসদ! মুকুলের মার

২০১৮-য় পঞ্চায়েত নির্বাচন ছিল মুকুলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম নির্বাচন। সেই নির্বাচনেই তিনি ছাপ রেখে যান। তৃণমূলকে ভেঙেই তিনি জঙ্গলমহলে ও উত্তরবঙ্গে বহু পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি দখল করেন। তারপর ২০১৯-এ তৃণমূলকে ঝটকা দিয়ে ১৮ জন সাসংদকে জিতিয়ে আনা মুখের কথা নয়।

তৃণমূল ভাঙিয়ে সাফল্য বিজেপির

তৃণমূল ভাঙিয়ে সাফল্য বিজেপির

আর এখানে উল্লেখ্য যে, এই ১৮ জন সাংসদের মধ্যে অনেকেই তৃণমূল ভাঙিয়ে আনা। তাঁদের বিজেপিতে যোগদান করানো থেকে টিকিটে দেওয়া এবং সাংসদ বানানো কম সাফল্যের নয় এই ক্ষুদ্র অবসরে। এবার সেই মুকুল রায়ই প্রভূত ক্ষমতা অর্জন করে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য কমিটি রদবদলে।

নয়া রাজ্য কমিটিতে মুকুলপন্থীদের ভিড়

নয়া রাজ্য কমিটিতে মুকুলপন্থীদের ভিড়

বিজেপির নয়া রাজ্য কমিটিতে মুকুলপন্থীদের ভিড়। মোদী-অমিত শাহরা বিজেপিকে একেবারে ফ্রি প্লেয়ার করে দিয়েছেন। তাঁকে যে কোনও পজিশনে খেলার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন। মুকুল অনুগামীদের বসানো হয়েছে এমন পদে, যাঁদেরকে দিয়ে তৃণমূলকে পিষে দিতে পারেন তিনি। বিজেপির রাজ্য কমিটিতে তিনি স্থান না পেলেও আদপে তাঁর হাতই শক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

মুকুলকে ফ্রি খেলাতে যাবতীয় ব্যবস্থা

মুকুলকে ফ্রি খেলাতে যাবতীয় ব্যবস্থা

যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মুকুলঘনিষ্ঠ সৌমিত্র খাঁ। এসটি মোর্চার সভাপতি খগেন মুর্মু, এসসি মোর্চার সভাপতি দুলাল বর- সবাই মুকুলের লোক বলে পরিচিত। তারপর সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, ভারতী ঘোষ, মাফুজা খাতুনকে দেওয়া হয়েছে গুরুদায়িত্ব। এবার এঁদেরকে কাজে লাগিয়ে মুকুল অনেক খেলা খেলতে পারবেন।

মুকুল বিজেপির ফ্রি খেলোয়াড়

মুকুল বিজেপির ফ্রি খেলোয়াড়

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মোর্চার প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেককে তিনি ভাঙিয়ে আনতে পারবেন তৃণমূল থেকে। ফলে ২০২১-এর আগে শক্তিবৃদ্ধি হবে বিজেপির। অমিত শাহরা অনেক ভেবেই তৃণমূলত্যাগীদের বা দলত্যাগীদের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথায় বসিয়ে মুকুলের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিলেন। মুকুলকে তৃণমূল ভাঙার কাজেই আগের মতো ব্যবহার করবে বিজেপি।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+