মুকুলের নীরবতাই দূরত্ব বাড়াচ্ছে বিজেপিতে! মমতার বিরুদ্ধে সম্মানের লড়াইয়েও খামতি
মুকুলের নীরবতাই দূরত্ব বাড়াচ্ছে বিজেপিতে! মমতার বিরুদ্ধে সম্মানের লড়াইয়ে খামতি
দীর্ঘ বিতর্কের পর মুকুল রায় ফলাও করে জানিয়েছিলেন তিনি বিজেপিতে আছেন, বিজেপিতেই থাকবেন। কিন্তু মুকুল রায় বাস্তবে দূরত্ব রেখেই চলছেন বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে। মধ্য কলকাতার বিজেপি সদর কার্যালয় থেকে যেমন তিনি ১০-১২ কিলোমিটার দূরত্ব রেখেছেন তিনি, একইভাবে দূরত্ব তিনি রেখেছেন বঙ্গ বিজেপি থেকেও।

মুকুলের কাছে বাংলার লড়াই একটা সেন্টিমেন্ট
মুকুল রায় বারবার জানিয়েছেন, যাঁরা বাংলার নিয়ন্ত্রণ করছেন তাঁরাই করুন। তিনি জাতীয় ক্ষেত্রে সক্রিয় আছেন। তিনি যোগাযোগ রেখেই চলছেন। এক্ষেত্রে একটা কথা প্রযোজ্য যে, মুকুল রায়ের কাছে বাংলার লড়াই একটা সেন্টিমেন্ট। তা ছেড়ে তিনি কেন বলবেন জাতীয় ক্ষেত্রে সক্রিয়।

পদ চান না, মমতা-শাসনের অবসান চান
তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেতা বলছেন। বঙ্গ বিজেপির তরফেও তাঁকে কেন্দ্রীয় নেতা বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কিন্তু তিনি তো এমনটাও বলেছিলেন, বাংলার শাসন থেকে মমতাকে উৎখাত করাই তাঁর পয়লা নম্বর উদ্দেশ্য। তিনি পদ চান না, চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের অবসান।

মমতার বিরুদ্ধে সেই ঝাঁঝ নেই মুকুলের!
এখন কিন্তু তাঁর মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সেই ঝাঁঝ নেই। তিনি এখন অনেকটাই নির্লিপ্ত। তাঁর অনুগামীরা দলে পদ পেয়েছেন, কিন্তু তিনি পাননি। সেই রদবদলের পর থেকেই বেশি করে আড়ালে চলে গিয়েছেন মুকুল রায়। দিল্লির বৈঠকের পর বিতর্কই তাঁকে সামনে এনে দিয়েছিল।

সবথেকে বড় জল্পনা মুকুলের নীরবতা
মুকুল রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় বিজেপিতে এসেছেন। তিন্ পদের মুখাপেক্ষী কোনও দিনও ছিলেন না। এখন তাঁর অনুগামীদের মধ্যে সব্যসাচী দত্ত, সৌমিত্র খান, অর্জুন সিংরা বড় পদ পেলেও তাঁর না পাওয়ার দুঃখ থাকবে, এমনটা হতে পারে না। সবথেকে বড় জল্পনা মুকুল রায়ের নীরবতা।

পদ দিয়ে সম্মান দেওয়া অপ্রাসঙ্গিক!
বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে, মুকুল রায় বিজেপিতে এসেছিলেন কোনও শর্ত ছাড়াই। তিনি চেয়েছিলেন যে কোনও মূল্য মমতার পতন। অমিত শাহের মতো রাজনৈতিক চাণক্যও মুকুল রায়ের সেই বার্তায় উৎসাহিত হয়েছিলেন। এখন তাঁকে পদ দিয়ে সম্মান দেওয়া অপ্রাসঙ্গিক।

শুধু পদ পাননি বলেই বিজেপি ছাড়বেন!
এখন প্রশ্ন একটাই তিনি যদি তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চান, তাঁর যুক্তি ও উদ্দেশ্য নিয়ে। কোন যুক্তিতে এবং কোন উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি তৃণমূলে ফিরবেন? তিনি কি হার স্বীকার করে সম্মান খুইয়ে তৃণমূলে ফিরবেন? নাকি তিনি শুধু পদ পাননি বলেই বিজেপি ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হবেন!

মুকুল নিজের মিশনে অবিচল থাকবেন!
বিজেপির স্থির বিশ্বাস মুকুল রায় তাঁর পুরনো দলে ফিরে যাবেন না। তাঁর ফিরে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই আসে না। কারণ বিজেপিতে খুব বেশি খুশি আছেন তিনি। তিনি তাঁর মিশনে অবিচল। আবার বিজেপি তাঁকে পদ এবং দায়িত্ব দিয়ে সম্মান দেওয়ার কথাও ভাবছে, যা তাঁর মিশনে তাঁকে নতুন আনন্দ দেবে।












Click it and Unblock the Notifications