শুভ্রাংশু কবে যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে, তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় কী জানালেন মুকুল রায়
মুকুল রায়কে এদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল, শুভ্রাংশু কি তবে বিজেপিতেই নাম লেখাতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর এড়াতে গিয়ে সামনে নিয়ে এসেছেন সিন্ধিয়া পরিবারের উদাহরণকে।
শুভ্রাংশুর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা সুচতুরভাবে এড়িয়ে গিয়ে ছেলের কোর্টেই বল ঠেলে দিলেন মুকুল রায়। বুধবার তিনি জানান, শুভ্রাংশু সাবালক। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিজেই নেবে। এতদিন একাই সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে, এবারও ও একাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ প্রসঙ্গে সিন্ধিয়া পরিবারের দৃষ্টান্তও ফের তুলে ধরেন তিনি।

মুকুল রায়কে এদিন প্রশ্ন করা হয়েছিল, শুভ্রাংশু কি তবে বিজেপিতেই নাম লেখাতে চলেছেন? এই প্রশ্নের উত্তর শুভ্রাংশুর উপর বর্তিয়ে এড়িয়ে গিয়েছেন মুকুলবাবু। আর এই প্রশ্নের উত্তর এড়াতে গিয়ে সামনে নিয়ে এসেছেন সিন্ধিয়া পরিবারের উদাহরণকে। তিনি বলেছেন, 'রাজমাতা গায়ত্রীদেবীর বিরুদ্ধে তো মাধবরাও সিন্ধিয়া দাঁড়িয়েছিলেন, তখন কি এই প্রশ্ন উঠেছিল? রাজনীতিতে একই পরিবারে ভিন্ন পার্টির উদাহারণ বহু রয়েছে। তাই এই প্পশ্ন অবান্তর।'
ধর্মতলায় যুব তৃণমূলের সভায় শুভ্রাংশু অনুপস্থিত থাকা নিয়েই জল্পনার সূত্রপাত। তাঁর গরহাজিরা এবং সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া নিয়ে সেই জল্পনার পারদ আরও চড়তে থাকে। তারপর কোচবিহারে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুকে বিজেপিতে যোগদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'শুভ্রাংশু বিজেপিতে আসতে চাইলে তাঁকে স্বাগত। বাবা-ছেলে একসঙ্গে বিজেপিতে থাকবে।' তারপরই বলেন, 'শুভ্রাংশুকে এখন ঠিক করতে হবে, তিনি বাবার দিকে থাকবেন, নাকি পিসির দিকে থাকবেন।'
তৃণমূলের সভায় গরহাজিরার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে তাঁর না আসার কারণ এখনও অজ্ঞাতই। তাঁর ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। একাংশ মনে করছে বাবার অপমান সামনে থেকে সহ্য করতে পারবেন না বলেই তিনি গরহাজির ছিলেন। অন্য একটি অংশের মতে তিনি জটিলতা দূর করতে বিজেপির দিকেই পা বাড়িয়ে রয়েছেন।
আর এই নানা জল্পনার পিছনে রয়েছে মুকুল-পুত্রের বর্তমান ভূমিকা। তাঁকে নিজের বিধানসভা ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে না। সংবাদমাধ্যমকেও এড়িয়ে চলছেন তিনি। তাই মুকুল রায় কাঁচরাপাড়ার বাড়িতে ফিরতেই সেই অবধারিত প্রশ্নটা উড়ে এসেছিল। তা শুনে ছেলের কোর্টেই বল ঠেলে দিলেন তিনি।
এদিন বিশ্ববাংলা বিতর্ক নিয়েও তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আমি আমার বক্তব্যে অনড়। যে অভিযোগ করেছি, তা সর্বৈব সত্য। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো আইনি নোটিশ নিয়ে তিনি বলেন আমার আইনজীবীই এর উত্তর দিয়েছেন। পাল্টা চিঠিও পাঠিয়েছেন। সাতদিনের মধ্যে ক্ষমা চেয়ে নোটিশ প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে চিঠিতে।
আর এদিন কোচবিহারের শীতলকুচিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের পথ আটকানো প্রসঙ্গেও তৃমমূল সরকারকে একহাত নেন তিনি। বলেন, 'বাম আমলে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সভা-সমিতি, মিছিলের উপর কোনওদিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কিন্তু এখন সভা-সমাবেশ-মিছিলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের রাজ্য সভাপতিকে যেভাবে আটকানো হল, তা রাজ্যে গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।'












Click it and Unblock the Notifications