মুকুলের মাস্টারস্ট্রোক! বিজেপি ভাঙতে এসে কি নিজেই জালে পড়লেন তৃণমূল নেতা
শিলিগুড়ির দলত্যাগী নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্যায়কে মুকুল-শিবির থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জাল পেতেছিল। সেই ফাঁদ কেটে তৃণমূল কংগ্রেসকে মোক্ষম আঘাত ফিরিয়ে দিল বিজেপি।
বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের দ্বিতীয় উত্তরবঙ্গ সফরে আর একটা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার প্রাক্তন বিধায়ক রাধাকান্ত মাইতির পর শিলিগুড়ির দলত্যাগী ডাকসাইটে নেত্রী শিখা চট্টোপাধ্যায়কে মুকুল-শিবির থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জাল পেতেছিল। কিন্তু সেই ফাঁদ কেটে তৃণমূল কংগ্রেসকে মোক্ষম আঘাত ফিরিয়ে দিল বিজেপি। উল্টে বিজেপি ভাঙাতে আসা নেতাকে নিজেরা ঘরে তুলে নিতে পাল্টা চাল দিলেন মুকুল রায়।

মুকুলের মাস্টারস্ট্রোকে এখন জোর জল্পনা শিখা চট্টোপাধ্যায়ের পর তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মাই না বিজেপিতে যোগ দেন! শিলিগুড়িতে মুকুল রায়ের সভার দিনই রঞ্জন শীলশর্মার চাঁছাছোলা ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ নিয়ে এখন জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তবে কি শিখা চট্টোপাধ্যায়কে বুঝিয়ে ঘরে ফেরাতে গিয়ে নিজেই ঘর ছাড়তে চললেন তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মা।
আসলে শিলিগুড়িতে পৌঁছেই এই আভাস দিয়েছিলেন স্বয়ং মুকুল রায়ই। তিনি বলেছিলেন, 'শিখা চট্টোপাধ্যায় একজন পরিণত রাজনৈতিক নেত্রী। তিনি যা করবেন বিবেচনা করেই করবেন। হয়তো দেখবেন উল্টোটাই হল। শিখাকে ভাঙাতে এসে তৃণমূলের রঞ্জন শীলশর্মাই বিজেপিতে চলে এলেন! যদি সেরকম কিছু ঘটে- আবাক হবেন না।'
মুকুলের এই কথার পর নিজের দলের বিরুদ্ধেই তৃণমূল নেতা রঞ্জন শীলশর্মার তোপ দাগায় তাই অন্য গন্ধ পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। তিনি এদিন শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, 'যখন বামফ্রন্ট বিরোধী আসনে ছিল, বুঝিয়ে দিয়েছিল বিরোধিতা কাকে বলে। এখন আমরা তার ১০ শতাংশও করতে পারি না। এখন কোনও আন্দোলনই হয় না।' এদিন বিরোধী দলনেতাকে একহাত নেন রঞ্জনবাবু। বিরোধী দলনেতার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এমনও বলেন, 'এভাবে চললে এবারও শিলিগুড়ি পুরসভায় ক্ষমতায় আসতে পারবে না তৃণমূল।' এদিন তিনি স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি। শিলিগুড়িতে যে গণতান্ত্রিক পথে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন হয়নি, এমনকী ভোটের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা খোলসা করে দেন রঞ্জনবাবু। মন্ত্রী তথা দার্জিলিং জেলা সভাপতি গৌতম দেবকেও তিনি রেয়াত করেননি। তাঁর এই সমালোচনাতেই মুকুল রায়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতে শুরু করে।












Click it and Unblock the Notifications