বিজেপির ‘পাখির চোখ’ লোকসভা! পঞ্চায়েতের ‘ছবি’কে হাতিয়ার করে নয়া কৌশল মুকুলের
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট-সন্ত্রাসের ছবি-ভিডিও নিয়ে তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছেন মুকুল রায়। রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখিয়ে তিনি কমিশনে অভিযোগ জানাবেন।
পঞ্চায়েতের ছবি দেখিয়ে লোকসভা নির্বাচনের ঘুঁটি সাজাতে চাইছে বিজেপি। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচন মিটলেও হাত গুটিয়ে বসে থাকতে চান না তাঁরা। রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট-সন্ত্রাসের ছবি-ভিডিও নিয়ে তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দরজায় কড়া নাড়তে চলেছেন মুকুল রায়। রাজ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখিয়ে তিনি কমিশনে অভিযোগ জানাবেন।

বিজেপির লক্ষ্য লোকসভা নির্বাচেন অন্তত ২০ আসনে জয়। সেই লক্ষ্যে শুধু মুকুল রায় বা দিলীপ ঘোষরাই নন, এবার লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করছেন অমিত শাহ। আসন বাড়াতে এবার উত্তর-পূর্ব ভারতই বিজেপির অন্যতম ভরসা। সেই কারণে বাংলা বিজেপির প্রধান টার্গেট।
কেননা উত্তরপ্রদেশ হোক বা রাজস্থান, দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা- সর্বত্রই বিজেপির আসন কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ঘাটনিত পূরণ করতে হবহে উত্তর-পূর্ব ভারত বা দক্ষিণ ভারতকে দিয়ে। ইতিমধ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতে বিজেপির বৃদ্ধি আশাতীত। তাই এবার বাংলা থেকে আসন বাড়িয়ে বাজিমাত করতে চান অমিত শাহরা।
মুকুল রায়-দিলীপ ঘোষদের উপর বাড়তি চাপ আছেই। তারপর অমিত শাহও জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আসতে পারেন বাংলায়। তিনি লোকসভা নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণ করবেন। তার আগে মুকুর রায় নির্বাচন কমিশনে বারবার দরবার করে চাপের খেলা শুরু করে দিলেন। পুরনো অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই তৈরি হচ্ছেন।
মুকুল রায় জানান, পঞ্চায়েত নির্বাচনে কী ধরনের সন্ত্রাস হয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু করে ভোট গণনার দিন পর্যন্ত সন্ত্রস্ত ছিল বাংলা। তিনি ইতিমধ্যেই নয়া দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সেইসঙ্গে জানিয়েছেন, শীঘ্রই ছবি আর ভিডিও ফুটেজ তিনি দাখিল করবেন। আবেদন জানাবেন আগামী নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্ত আয়োজন করতে।
উল্লেখ্য, গতবার লোকসভায় পাঁচ দফায় ভোট হয়েছিল রাজ্যে। এবার কীভাবে নির্বাচন কমিশন আরও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা দেখার। এদিকে মুকুলবাবুর দাবি, শাসকদল সন্ত্রাস না করলে তাদের আসন সংখ্যা অনেক বাড়ত। এবার বিজেপি গতবারের তুলনায় প্রায় দশগুণ আসন পায়। পাঁচশো থেকে বেড়ে বিজেপির আসন সংখ্যা হয় পাঁচ হাজার। তবে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়ায় তলানিতে। বিজেপি বাড়লেও, তৃণমূল কমেনি, বরং পাল্লা দিয়ে তাঁরাও বাড়িয়েছে আসন। প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে সিপিএম-কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications