দিলীপের 'গুডবুকে' নেই মুকুল-ঘনিষ্ঠরা, বিজেপির রদবদলে পদ খোয়ানোর আশঙ্কা জোরদার
দিলীপের গুডবুকে নেই মুকুল-ঘনিষ্ঠরা, বিজেপির রদবদলে পদ খোয়ানোর আশঙ্কা জেরদার
বাংলায় বিধানসভা ভোটের পর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ ও অনুগামীরা এখনও রয়ে গিয়েছেন বিজেপির বিভিন্ন পদে। তাই তাঁদের নিয়ে চিন্তায় পড়ছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ চাইছেন, মুকুল-ঘনিষ্ঠদের বঙ্গ বিজেপির পদ থেকে অপসারিত করতে।

বিজেপির সাংগঠনিক পদে আর নয় মুকুল-ঘনিষ্ঠরা
সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে তলব করেছিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাঁদের মধ্যে বঙ্গ বিজেপির সংগঠনে রদবদল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানেই দিলীপ ঘোষ প্রস্তাব রাখেন, বঙ্গ বিজেপির বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে অপসারিত করতে হবে মুকুল-ঘনিষ্ঠদের।

বিজেপির কাছে আতঙ্কের নাম হল মুকুল রায়
দিলীপ ঘোষের গুডবুকে নেই মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতারা। দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাইকেই সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি। বিজেপির কাছে এখন সবথেকে বেশি আতঙ্কের নাম হল মুকুল রায়। তাই মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পথেই হাঁটবে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মুকুল-অনুগামীরা মাথাব্যথার কারণ বিজেপিতে
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য বিজেপিতে যে রদবদল হয়েছিল, সেখানে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে বেশিরভাগই মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির সহ সভপাতি থেকে সম্পাদক ও শাখা সংগঠনের প্রধান পদে মুকুল রায়-অনুগামীদের সামিল করা হয়েছিল। তাঁদের বেশিরভাগ নেতাই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে বিজেপিতে।

বঙ্গ বিজেপিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা
দিলীপ ঘোষ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কাছে সাফ জানিয়েছেন, বঙ্গ বিজেপিকে ঢেলে সাজাতে হবে। নতুন মুখ আনতে হবে। পুরনোদের মধ্যে দু-একজনকে ছাড়া বেশিরভাগ নেতা-নেত্রীদের সরিয়ে নয়া টিম গঠনই হবে লক্ষ্য। ২০২১-এর নির্বাচন চলে গিয়েছে, এবার আসন্ন ২০২৪-এর লোকসভাকে পাখির চোখ করে বিজেপিকে তৈরি হতে হবে।

সক্রিয় সদস্যদের সামনে আনতে চান দিলীপ
প্রকারান্তরে দিলীপ ঘোষ বুঝিয়ে দিয়েছেন মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে আসা অনেককে আর পদে রাখা হবে না। যাঁরা সম্প্রতি বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন, তাঁরা তো বটেই, এছাড়া আরও অনেকে রয়েছেন যাঁরা নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন। মোট কথা, বঙ্গ বিজেপিকে এবার সক্রিয় সদস্যদের সামনে আনতে হবে।

আদিদের প্রাধান্য দিয়েই কমিটি বিজেপির
দিলীপ ঘোষের এই কথায় স্পষ্ট, আর নব্যদের কেনও জায়গা নেই। আদিদের প্রাধান্য দিয়েই কমিটি হবে এবার। নব্যরা যে থাকবেন না এমন নয়। তাঁরাই থাকবেন বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক পদে যাঁরা বিজেপিতে এসে মানিয়ে নিতে পেরেছেন। বিজেপিকে আদর্শ মেনেছেন। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি।

মুকুল-মুক্ত বিজেপি গড়তে তৎপর দিলীপ
সম্প্রতি মুকুল ঘনিষ্ঠ আরএসএস নেতা অপসারিত হয়েছেন বাংলা থেকে। মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ নেতা প্রদীপ যোশিকে বাংলা থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চণ্ডীগড়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রমাপদ পাল। দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সংঘনেতা পূর্ব ক্ষেত্রের প্রচারকের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্প্রতি। এছাড়া কলকাতা কেন্দ্রের সহ ক্ষেত্র প্রচারক জলধর মাহাতোও দিলীপ-ঘনিষ্ঠ।

কোপ পড়ছে মুকুল-বান্ধব কৈলাশের ঘাড়েও
দিলীপ ঘোষ যে চাইছেন না মুকুল-ঘনিষ্ঠ কোনও নেতা বিজেপির পদে থাকুন, প্রদীপ যোশির সরে যাওয়া তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। মুকুলহীন বঙ্গ বিজেপিতে কৈলাশ ফিরতে চান না, তা জানিয়েই দিয়েছেন ইতিমধ্যে। মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর সমীকরণ কারও অজানা নয়। ওই বিবৃতির পরে কৈলাশ-ঘনিষ্ঠ কিশোর বর্মনকেও বাংলা থেকে অপসারিত করা হয়েছে।

কোনও মুকুল-অনুগামী বিজেপির পদে নয়
তাই বিজেপির তরফে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতারা এবার সাইড হবেন বিজেপিতে। দিলীপ ঘোষ যে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলে মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতাদের সরিয়ে তাঁর অনুগামী নেতাদেরই বসাবেন। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও চাইছে না, কোনও মুকুল-অনুগামী বিজেপির পদে থাকুন। সেই পদক্ষেপ শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিজেপিতে মুকুলের লোক চিহ্নিত করতে তৎপরতা
মুকুল রায় প্রভাব খাটিয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটিতে তাঁর অনুগামী নেতাদের বসিয়েছিলেন। এখন তিনি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন। কিন্তু তাঁর অনুগামীদের এখনও তৃণমূলে জায়গা দিতে পারেননি। তাঁরা বেশিরভাগ বিজেপিতেই রয়ে গিয়েছেন। অনেকেই পদাধিকারী। তাঁদের নিয়ে ঘোরতর চিন্তায় রয়েছে বিজেপি শিবির। বিজেপি তাঁদের দল থেকে বিতাড়িত না করলেও, পদ থেকে অপসারিত করতে তৎপর হবে এবার।












Click it and Unblock the Notifications