শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপিতে মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়কও! একের পর এক ধাক্কায় নাজেহাল তৃণমূল
শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপিতে মুকুল-ঘনিষ্ঠ শীলভদ্রও! একের পর এক ধাক্কায় নাজেহাল তৃণমূল
মুকুল রায়-ঘনিষ্ঠ শীলভদ্র দত্ত শেষমেশ যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতে! শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তিনি মেদিনীপুরে অমিত শাহের হাত ধের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে। পিকের টিম তাঁর বাড়িতে গিয়ে মানভঞ্জনে ব্যর্থ হয়েছে। জ্যোতিপ্রিয়ও দেখা পাননি বাড়িতে গিয়ে। তাতেই জল্পনা শুরু হয়।

বিজেপিতে যোগ দেওয়া সময়ের অপেক্ষা ছিল শীলভদ্র দত্তের!
মিহির গোস্বামী যেভাবে তৃণমূলের মন্ত্রীদের এড়িয়ে গিয়েছিলেন, একইভাবে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ শীলভদ্র দত্তও এড়িয়ে যান জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে। তারপর থেকেই তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে্ মুকুল রায় তাঁকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেটাই এখন সত্যি হতে চলেছে।

শীলভদ্রের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা- দম বন্ধ হয়ে আসছে
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বেসুরো বাজছেন। প্রশান্ত কিশোরের টিমের বিরুদ্ধে তিনি গর্জে উঠেছিলেন। তারপর ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা- দম বন্ধ হয়ে আসছে। তারপর পিকের টিম তাঁর বাডডিতে গেলে তিনি ফিরিয়ে দেন। এরপর জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গেও তিনি দেখা করেননি।

মুকুল রায়ের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে লুকিয়ে ছিল ইঙ্গিক
শীলভদ্র দত্ত মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতা। তাঁর মানভঞ্জনে প্রশান্ত কিশোরের টিম এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বাড়িতে এসেছেন শুনে মুকুল রায় তাৎপর্যপূর্ণ জবাব দেন। তিনি বলেন, ভালো তো ওঁরা চেষ্টা করুন যদি রাজি করাতে পারেন শীলভদ্রকে। এই খোঁটা দেওয়ার কিছুদিন পরে শীলভদ্র মুকুলের বাড়িতে যান বলে খবর রটে যায়। তখন মুকুল জানান, শুভেন্দুর সঙ্গে রয়েছে শীলভদ্র দত্ত।

শুভেন্দুর সঙ্গে শীলভদ্র দত্তও পাড়ি জমাতে পারেন বিজেপিতে
মুকুলের মুখে শুভেন্দর দলবদল নিয়ে তৃণমূল ছাড়বে- এমন ইঙ্গিত পাওয়ার পর তাঁদের বিজেপিতে যোগদান সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল। তা-ই ঘটতে চলেছে হয় দিল্লি গিয়ে নতুবা মেদিনীপুরে অমিত শাহের সভায় বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন শুভেন্দু। আর তাঁর সঙ্গে শীলভদ্র দত্তও পাড়ি জমাতে পারেন বিজেপিতে। এখন দেখার আর কে কে যান শুভেন্দুর সঙ্গে। এদিন সুনীল মণ্ডলের সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাতের সম্ভাবনায় তাঁকে নিয়েও জল্পনা।

মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতার দলত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছে ২০১৯ থেকে
২০১৯ নির্বাচনের আগে মুকুল রায়ের হাত ধরে অর্জুন সিং দলবদল করে বিজেপির প্রার্থী হন বারাকপুর থেকে। বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি সাংসদ নির্বাচিত হন। লোকসভা ভোট মিটতেই বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র এলাকায় তৃণমূলে ভাঙন ধরতে দেখা যায়। তখনই শীলভদ্র দত্তের বিজেপিতে যোগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতা কিন্তু তখনও দল ছাড়েননি।

পিকের টিমের প্রশ্নবাণ নিয়ে খোঁচার পরও তৃণমূল নিস্পৃহ
কিন্তু তারপরও শীলভদ্র দত্তকে তৃণমূল সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। বারাকপুরের বিধায়ক প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, এবার আর তিনি প্রার্থী হতে চান না বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব নির্লিপ্ত থেকেছে শীলভদ্র দত্তকে নিয়ে। পিকের টিমের প্রশ্নবাণ নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন শীলভদ্র, তবুও তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব যায়নি তাঁর কাছে। কথা বলেনি।

পিকের টিমকে শীলভদ্রের জবাব- মত বদলাতে পারবেন না
তৃণমূল নেতৃত্ব শীলভদ্রের মানভঞ্জনে নিজেরা না গিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছিল পিকের টিমের সদস্যদের। তাঁদের সটান রাস্তা দেখিয়ে দেন তৃণমূলের দাপুটে বিধায়ক। এবং সাফ জানিয়ে দেন তিনি তাঁর মত বদলাতে পারবেন না। ফলত আলোচনার কোনও জায়গা নেই। পিকের টিমের সদস্যরা ফিরলে ঘুম ভাঙে তৃণমূলের। তবে জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেও নিরাশ হতে হয়।

সিদ্ধান্তে অনড় মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতা, আরও এক ধাক্কা তৃণমূলে
শীলভদ্র দত্ত প্রকারান্তরে জানিয়ে দিয়েছেন, অনেক সময় চলে গিয়েছে, দলীয় নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি তাঁর ঘোষণা থেকে একচুলও সরবেন না। তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড়। এবার নির্বাচনে তিনি দাঁড়াবেন না। ফলে মুকুল-ঘনিষ্ঠ নেতাকে ফেরাতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হতে পারে তৃণমূলকে।












Click it and Unblock the Notifications