মুকুল দলবদলের পর এবার বাড়িও বদলাচ্ছেন, কোন সমীকরণ কাজ করছে নেপথ্যে
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর সপুত্র মুকুল রায় দল বদলেছেন। বিজেপি ছেড়ে ফিরে এসেছেন নিজের দলে তৃণমূলে। তারপর তাঁকে এখনও সে অর্থে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর সপুত্র মুকুল রায় দল বদলেছেন। বিজেপি ছেড়ে ফিরে এসেছেন নিজের দলে তৃণমূলে। তারপর তাঁকে এখনও সে অর্থে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি। কৃষ্ণনগরে গিয়ে মুখ ফসকে বিজেপির হয়ে সওয়াল করার পর থেকেই মুকুল রায় একটু পিছনের সারিতে। যদিও এ জন্য স্ত্রী-বিয়োগে মুকুল রায়ের মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক অসুস্থতাকেই দায়ী করা হয়েছে। এই অবস্থায় মুকুল রায় বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত নিলেন।

দলবদলের পর মুকুল রায়ের বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েও এবার জল্পনা শুরু হয়েছে। মুকুল রায় নিজের মুখেই জানিয়েছেন, এখনও বাড়ি বদল করিনি। তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাড়ি বদল হয়ে যাবে। হঠাৎ কেন বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত নিলেন? প্রশ্নর উত্তরে মুকুল রায় বলেন, আমরা বাড়ি বদলের মধ্যে আবার যেন কোনও জল্পনা খুঁজবেন না। আমার বাড়ি বদলের পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই।
মুকুল রায়ের আদি বাড়ি কাঁচরাপাড়ায়। সেখানে পুত্র শুভ্রাংশু, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে থাকেন তিনি। বিজেপিতে থাকাকালীন রাজনৈতিক কাজকর্মের জন্য তিনি সল্টলেকে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন। সল্টলেকের বিডি ব্লকে ৫১ নম্বর বাড়িতে থাকতেন তিনি। বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হিসেবে এখান থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালিত করতেন মুকুল রায়।
এবার বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের এক মাস যেতে না যেতেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। ১১ জুন তৃণমূল ভবনে গিয়ে তিনি মমতা বন্যোি পাধ্যায়ের উপস্থিতিতে পুরনো দলে ফেরেন। তারপরই তাঁর এই বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
মুকুল রায় নিজের মুখে বলছেন বাড়ি বদলের কোনও কারণ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বাড়ি বদলের যথার্থ কারণ রয়েছে। মুকুল রায় চাইছেন না, যে বাড়ি থেকে তিনি বিজেপির কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, সেই বাড়ি থেকে তৃণমূলের কাজকর্মও চালাতে। তাই তিনি সল্টলেকের ওই ব্লকেই আর একটি বাড়ি ভাড়া নিচ্ছেন।
পুজোর পর মুকুল রায় সেই বাড়ি থেকেই তৃণমূলের কাজকর্ম পরিচালনা করবেন তিনি। মুকুল রায়ের নতুন ঠিকানা হবে সল্টলেকের বিডি ব্লকের ১৬৪ নম্বর বাড়ি। স্ত্রী বিয়োগের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। পুজোর পর তিনি তাঁর পুরনো দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করবেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করতে শুভেন্দু অধিকারী আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন। মুকুল রায় ঘূঁটি সাজিয়ে নামবেন পুজোর পর। পিএসি কমিটির চেয়ারম্যান ইস্যুতেও তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।












Click it and Unblock the Notifications