একুশের ভোটে বঙ্গ বিজেপির টার্গেট অভিষেক, মমতাকে পদে পদে বোঝাচ্ছেন শুভেন্দু-মুকুলরা
একুশের ভোটে মমতা নন, টার্গেট অভিষেকই! পদে পদে বোঝাচ্ছেন শুভেন্দু-মুকুলরা
তৃণমূল কংগ্রেসের এক ও অদ্বিতীয় মুখ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, দলের সুপ্রিমো। বাকি সবাই নাকি সৈনিক। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নয়, টার্গেট করছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নাম না করে বিজেপির 'ভাইপো' কটাক্ষে একুশের আগে নয়া স্লোগান উঠঠে রাজ্য রাজনীতিতে।

বিজেপি নেতৃত্বের মুখে মুখে ভাইপোকে নিশানা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে মেদিনীপুরের সভায় বিজেপিতে যোগ দেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েই স্লোগান তোলেন ‘তোলাবাজ ভাইপো' হটাও। শুধু শুভেন্দু নয়, তার আগে বিজেপি নেতৃত্বের মুখে মুখে ফিরেছে ভাইপোকে নিশানার বার্তা।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ অভিষেকের হাতে?
তৃণমূলের অনেক বিদ্রোহীর অভিযোগ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আর তৃণমূল কংগ্রেসের রাশ নেই। এই দলটি দিদি-র দ্বারা আর পরিচালিত হচ্ছে না। বর্তমানে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই ব-কলমে দল চালাচ্ছেন। তিনিই ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে দোসর করে পরিচালনা করছেন পার্টির।

পিসি উহ্য, সর্বত্রই টার্গেট ভাইপো অভিষেক
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতাদের আনা এই অভিযোগ মতোই এবার অভিষেককে টার্গেট করছে বিজেপি। বাংলায় পরিবারতন্ত্র কায়েমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন তাঁরা। বাংলার রাজনীতিতে রোজনামচা হয়ে উঠেছে পিসি-ভাইপো তত্ত্ব। বিজেপির জনসভা হোক বা সাংবাদিক সম্মেলন কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট- সর্বত্রই টার্গেট ভাইপো অভিষেক।

মমতার জীবন-ছায়ায় বেড়ে উঠে অভিষেক যুবরাজ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আর মাস তিন-চারেকের ব্যবধানে। তার আগে ‘যুবরাজ' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই টার্গেট করে এগোচ্ছে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উত্থান হওয়া বিজেপি। অভিষেকের বয়স এখন 33 বছর। মমতার রাজনৈতিক জীবন-ছায়ায় তিনি বেড়ে উঠেছেন। ফলে তিনি হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।

ডায়মন্ড হারবারে সাংসদ প্রার্থী হয়েই হাতেখড়ি
দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইআইপিএম) থেকে থেকে বিবিএ এবং এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন বলে প্রকাশ। ছাত্র রাজনীতিতে তাঁর সে অর্থে কোনও ইতিহাস নেই। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা ও সমাবেশে একজন ‘অতিথি' হিসাবে। ২০১৪ সালের লোকসভায় ডায়মন্ড হারবারে প্রার্থী হয়েই তাঁর হাতেখড়ি।

অভিষেকের উত্থানে দলত্যাগ মুকুল-শুভেন্দুর
এরপর রাজনীতির কচকচানির মধ্যেই অভিষেক এক এক গুরুত্বের পদ পেয়েছেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতা শুভেন্দুকে সরিয়ে তিনি যুব সভাপতি হয়েছেন। তারপর মুকুল রায়কে সরিয়ে তিনি অলিখিত সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হয়ে উঠেছেন দলের। তাঁর এই উত্থানে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছেড়েছেন। যার মধ্যে রয়েছেন মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর মতো বড় মুখ। তাঁরাই এখন ভাইপোর হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications