মুকুল আছেন আড়ালে! কৈলাশকে সামনে রেখে দিলীপের সঙ্গে যুদ্ধ জারি বঙ্গ বিজেপিতে
মুকুল আছেন আড়ালে! কৈলাশকে সামনে রেখে দিলীপের সঙ্গে যুদ্ধ জারি বিজেপিতে
২০২১-এর আগে বঙ্গ বিজেপিতে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। আবার সেই ঘুরে ফিরে মুকুল রায় বনাম দিলীপ ঘোষ। সৌমিত্র খাঁয়ের নেতৃত্বাধীন যুব মোর্চার সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষের এই লড়াই একুশের নির্বাচনের আগে বিজেপিকে ফের বিপাকে ফেলে দিয়েছে। এমনকী এই লড়াই পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির দরবার পর্যন্ত।

সৌমিত্র খানের তৈরি তালিকা বাতিল দিয়ে শুরু
দ্বন্দ্বের শুরু বিজেপির যুব মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খানের তৈরি তালিকা বাতিলকে কেন্দ্র করে। সৌমিত্র জেলা যুব সভাপতিদের একটি তালিকা ঘোষণা করেছিলেন। সেই তালিকা বাতিল বলে গণ্য করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সৌমিত্রের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। তিনি নিজের লোককে ওই তালিকায় ঢুকিয়েছেন বলে অভিযোগ।

মুকুল-দিলীপের ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকে নিয়ে লড়াই তুঙ্গে
এর পরই মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকে নিয়ে লড়াই তুঙ্গে ওঠে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে মুকুল ঘনিষ্ঠ শঙ্কুদেব পণ্ডাকে যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক পদে বসাতে। দিল্লির এক নেতা সরাসরিই জানিয়েছেন সেই কথা। আর এক নেতা জানিয়েছেন, শঙ্কু সাধারণ সম্পাদক হোক বা না হোক, দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ প্রকাশ দাসকে ওই পদ থেকে সরাতে হবে।

বিজেপিতে মুকুল বলান দিলীপ লড়াইটা রয়েই গিয়েছে
এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর বিজেপিতে মুকুল বলান দিলীপ লড়াইটা রয়েই গিয়েছে। এমনকী তা বাংলা থেকে দিল্লির দরবার পর্যন্তও পৌছে গিয়েছে। এই অবস্থায় ফের একবার ঝড় উঠতে চলেছে বিজেপিতে। দিলীপ ঘোষ চাইছে, যে তালিকা হয়েছে তা-ই চূড়ান্ত করতে। অন্যদিকে সৌমিত্র খাঁ এই অবসরে শঙ্কুকে সাধারণ সম্পাদক করে দায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চাইছেন।

মুকুল-দিলীপের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে জলাঞ্জলি
কিছুদিন আগেই মুকুল-দিলীপ একসঙ্গে বৈঠক করে বলেছিলেন, সামনেই একুশের বিধানসভা ভোট। সেই ভোটের লক্ষ্যে আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা। তাই মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষ উভয়েই একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে লড়বে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই ঘোষণার এক মাস কাটতে না কাটতেই ফের একবার অন্তর্কলহ সামনে চলে এল।

যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে লড়াই
বঙ্গ বিজেপির পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় চেয়েছিলেন মুকুল ঘনিষ্ঠ শঙ্কুদেবকে যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে বসাতে। দিলীপ ঘোষ তাতে তীব্র আপত্তি জানান। তিনি যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে বলেন প্রকাশ দাসকে ওই পদে বসাতে। শেষে প্রকাশের নাম রেখেই সৌমিত্র তালিকা প্রকাশ করে দেন।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সৌমিত্রের বৈঠক, নির্যাস
তারপরই সৌমিত্রকে তলব করা হয় দিল্লি থেকে। তিনি দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। কেন্দ্রীয় নেতা শিবপ্রকাশ সাফ বলে দেন, প্রকাশ দাস যাঁর লোকই হোক না কেন, তাঁকে পদ থেকে সরাতে হবে। আর কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র লড়াই জারি, যে কোনও প্রকারে শঙ্কুকে ওই পদে বসাতে।

একুশের আগে বিজেপিতে ফের অশনি সংকেত
কৈলাশের এই লড়াইয়ের নেপথ্যে মুকুল রায়ের হাত আছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, সৌমিত্র খাঁও মুকুল ঘনিষ্ঠ। তাই তিনি দিলীপের রোষানল থেকে বাঁচতে প্রথমে প্রকাশ দাসের নাম ঘোষণা করলেও এখন শঙ্কুকে ওই পদে ঢুকিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘাড়ে দায় চাপাতে চাইছেন। মোট কথা বিজেপিতে ফের অশনি সংকেত।












Click it and Unblock the Notifications