মা দুর্গা এখানে বাড়ির মেয়ে, প্রসাদে তাই থাকে চা-বিস্কুটও
মা দুর্গা এখানে বাড়ির মেয়ে, প্রসাদে তাই থাকে চা-বিস্কুটও
বছরে একবারই বাবার বাড়িতে ফেরে মেয়ে৷ থাকে মাত্র ৪-৫ দিন৷ তাই তাঁর খাতির যত্নে কোনওরকম ত্রুটি রাখতে চান না বাড়ির লোকরা৷ আর মেয়েও তো যে সে কেউ নয় স্বয়ং মা দুর্গা। তাই পুজোর কটা দিন সকালে চা-বিস্কুট থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পান পর্যন্ত সেজে দেওয়া হয় বাড়ির মেয়ের জন্য। এই নিয়মের শুরু কবে থেকে বা কার হাতে তা জানেন না মন্দিরের পুরোহিত গৌতম ষড়ঙ্গী৷ তবে ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড়ের কনকদুর্গা মন্দিরে এই নিয়মই চলে আসছে বহু বছর ধরে৷

প্রসাদে থাকে মাংস ও খিঁচুড়িও
ডুলুং নদীর পড়ে ঘন জঙ্গল আর তার মঝেই প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো কনক দুর্গার মন্দির৷ মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন রামচন্দ্র ষড়ঙ্গী।
বংশ পরম্পরাই এই মন্দিরে পুজো করেন ষড়ঙ্গীরা৷ বর্তমান মন্দিরের পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন আতঙ্কভঞ্জন ষড়ঙ্গী এবং গৌতম ষড়ঙ্গী৷ওয়ানইন্ডিয়া বাংলাকে গৌতম বাবু জানান। মায়ের নিত্য পুজোতো হয়ই কিন্তু দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে নিয়ম ও জাঁকজমক অনেকটাই বেড়ে যায়৷ তবে মা এখানে বাড়ির মেয়ে তাই আমরা যা খাই মাও প্রসাদ রূপেই তা গ্রহণ করে। পঞ্চমীর সকাল শুরু হয় চা ও বিস্কুট প্রসাদ হিসেবে অর্পন করে৷ তারপ সময়ে সময়ে লুচি তরকারি থাকে ব্রেকফাস্ট৷ মায়ের জন্য প্রতিদিন আলাদা আলাদা পদ থাকে দুপুরের খাবারেও।

নবমীতে এখনও হয় বলি!
জঙ্গলে ঘেরা এই প্রাচীন মন্দিরপ নাকি একসময় নরবলি হত। মন্দিরের সামনেই রয়েছে পেল্লাই সাইজের হাড়িকাঠ৷ তবে অনেক বছর আগেই সে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ তবে এখনও নবমীতে ছাগল বলি হয় মন্দিরে। তার পর তা রান্না হয় প্রসাদে। খিঁচুড়ি, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, মাংস, বিভিন্ন রকমের ফল পায়েস ও মিষ্টি থাকে মায়ের প্রসাদে৷ পুজোর সময় এই বলি দেখতে প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। দর্শন করতে আসা সমস্ত ভক্তই মায়ের প্রসাদ পান।

মন্দিরকে জড়িয়ে অলৌকিক লোকগাথা!
১৩৪০ বঙ্গাব্দের আশেপাশে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির তৈরি করেন ঘাটশিলার দেওধল রাজা৷ প্রচলিত লোকগাথা অনুসারে রাজা জগদীশচন্দ্র দেওধল একদিন রাতে হঠাৎ স্বপ্ন দেখেন চিল্কিগড়ের নদী সংলগ্ন জঙ্গলে এক অপরূপ নারী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এবং রাজা দেওধলকে বলছেন তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য। পরদিনই এই মন্দির প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন রাজা। সে সময় রানীর হাতের সোনার কাঁকন বা বালা গলিয়ে মা দুর্গার মূর্তি হয়েছিল বলে সে থেকে দেবীর নাম কনকদুর্গা৷ আরও শোনা যায় এই জঙ্গলে ঘেরা প্রাচীন মন্দিরে অষ্টমীর দিন ভোগ রান্না করেন স্বয়ং মা দুর্গা৷












Click it and Unblock the Notifications