আরও ৪২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি প্রশ্নের মুখে! এবার কারা রয়েছেন তালিকায়
একের পর এক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি সামনে আসছে। আর আদালতের নির্দেশে চাকরি হারানো প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই তালিকায় নতুন করে সংযোজন হতে পারে আরও ৪২ হাজার। আরও ৪২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রক্রিয়া প্যানেল ছাড়াই
বুধবার সিবিআই একটা রিপোর্ট দিয়েছে আদালতে। সেই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সচিব হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে কোনো অতিরিক্ত প্যানেল প্রকাশ করা হয়নি। ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে প্রক্রিয়া হয়েছিল কোনো প্যানেল প্রকাশ না করেই।

এটা দূর্নীতি নয় তো কী? প্রশ্ন বিচারপতির
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই নিয়োগ মামলায় হলফনামার পেশের পর জানিয়েছেন, একটা বাইরের এজেন্সিকে গোপননথির (ওএমআর) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেজন্য তাদেরকে আগাম পেমেন্টও দেওয়া হয়েছিল। এটা দূর্নীতি নয় তো কী? কী করে এই সরকারের শিক্ষা দফতর বেআইনি কাজ সহ্য করল, সেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি

এই নিয়োগ বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে
বিচারপতি বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যর নির্দেশেই হয়েছিল কি না সেটা দেখতে হবে। এই ক্ষেত্রে ৪২, ৯৪২ জনের নিয়োগ হয়েছিল। এদিন শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মন্তব্য করেন, এই নিয়োগ বাতিল বলে ঘোষণা করতে হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

৪২৯৪২ জনের চাকরি বাতিল হবে? পরবর্তী শুনানির অপেক্ষা
বিচারপতি বলেন, তার জন্য ডিজিটাইজ ওয়েতে মার্কশিটের বিষয়ে ৪ এপ্রিল মামলার শুনানি হবে। ৬ এপ্রিল ফের আর একটা মামলার শুনানি হবে। এই দুই মামলার উপর নির্ভর করে থাকছে ৪২৯৪২ জনের চাকরি বাতিল হবে কি না। বিচারপতির এহেন মন্তব্যের পরে নিয়োগ দুর্নীতিতে আরও চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হল।

কোনো অ্যাডিশনাল প্যানেল তৈরি করেনি পর্যদ
তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সেক্রেটারি রত্না চক্রবর্তী বাগচি হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন, ' এডিবিআই' কোড নামে একটি প্যানেল দেখিয়ে নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু কোনো অ্যাডিশনাল প্যানেল তৈরি করা হয়নি। এসিন শুনানিতে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যেও চাকরি হারানোর ভয়।

যদি বেশি সংখ্যক দূর্নীতি হয়, তাহলে বাতিল
তিনি বলেন, যদি দেখা যায় হিউজ দূর্নীতি হয়েছে, তাহলে তাতে দু-চারজন সৎ থাকলেও তাদের সাফার করতে হয়। কিছু করার থাকে না। তেমনই এক্ষেত্রে আমাদেরও কিছু করার থাকবে না, তাদের জন্য খারাপ লাগা ছাড়া। ৪২ হাজার নিয়োগেই যদি বেশি সংখ্যক দূর্নীতি হয় তাহলে তা বাতিল করাই উচিত।

অন্তত ১ শতাংশ আধিকারিকদের বরখাস্ত করতে চাই
বিচারপতি এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি চাইছি যে বিপুল দূর্নীতি হয়েছে তাতে অন্তত ১ শতাংশ আধিকারিকদের বরখাস্ত করতে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে চাই। তার জন্য বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করব। তা শুনে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, কিন্ত আপনি তাদের খুঁজে পাবেন কী করে?

কোনোরকম টেন্ডার ছাড়াই নিয়োগের কাজে নিযুক্ত
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, আমি একটি মামলায় একজনের কথা জানতে পারলাম, যিনি এই চাকরি দেওয়ার নামে আলাদা দফতর খুলেছেন। নিয়ম অনুয়ায়ী ৫ শতাংশ অ্যাডিশনাল প্যানেল তৈরি করাই হয়নি। পাশাপাশি এস বসু রায় এবং কোম্পানিকে কোনোরকম টেন্ডার ছাড়াই নিয়োগের কাজে নিযুক্ত করা হয়। তাদের ১০ লক্ষ টাকা আগাম দেওয়া হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications