তৃণমূল-বিজেপির মতি নেই পঞ্চায়েত ভোটে, মমতা-শুভেন্দুকে একযোগে বিঁধলেন সেলিম
অমিত শাহ টার্গেট করছেন বাংলার ৩৫ লোকসভার আসন। আর তৃণমূলের টার্গেট ৪০। তারপর আগামী বিধানসভায় নাকি তৃণমূল ২৪০ আসন পাবে। এসবের মধ্যে মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ওরা বলছে ভোটের কথা, আমরাই শুধু বলছি মানুষের কথা।
তিনি বলেন, রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট করার নাম নেই, তৃণমূল আর বিজেপি মেতেছে ২০২৪-এর লোকসভা ও ২০২৬-এর বিধানসভা ভোট নিয়ে। ওঁরা শুধু মন্ত্রী হতে চায়। আমরা চাই মানুষের কথা বলতে। কেন্দ্র ও রাজ্য দুই শাসক দলই পঞ্চায়েত ভোট করাতে চায় না। মানুষ কিন্তু জোট বাঁধছে।

মহম্মদ সেলিম বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। চ্যালেঞ্জ নাও। ক্ষমতা থাকলে দ্রুত পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা করুন। রবিবার নাগরাকাটার আদিবাসী সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রে সিপিএমের নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক একটি কর্মিসভায় এসে ঘাসফুল ও পদ্ম দুই শিবিরকে একই সুরে বিঁধে একথা বলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
বহুদিন পর এদিনের সভায় কর্মী সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে দৃশ্যতই উচ্ছসিত এক সময়ের লাল দূর্গ নাগরাকাটার সিপিএম নের্তৃত্ব। চা বাগানের শ্রমিকদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে মহম্মদ সেলিম তৃণমূল ও বিজেপিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তাঁর কথায়, মালিকপক্ষ জানে কেন্দ্র ও রাজ্যে তাঁদেরই সরকার।

মহম্মদ সেলিম বলেন, চা বাগান এখন শিল্পপতিদের নয়। বেওয়ারিশ দের দখলে। এক শ্রেণির ফোড়েরা মালিক হচ্ছেন। শ্রমিকদের অধিকার মিলছে না। সম্পদ হস্তান্তর হচ্ছে। চা বাগানের জমি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা পাকা করে ফেলা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো এখানেই এসে তামাশা করে গেলেন।
সেলিম প্রশ্ন করেন, মালিকরাও মিটিং করেছেন। তারপরই দেবপাড়া বন্ধ হল কেন? দ্রুত ওই বাগান খুলতে হবে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির আওতায় আনতে হবে। লোক দেখানো বারবার অন্তর্বর্তীকালীন মজুরি বৃদ্ধিতে কারো সায় নেই। ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন চলছে ও চলবে।
গরুপাচার কাণ্ড নিয়েও সেলিম তৃণমূল ও বিজেপিকে একই পংক্তিতে বসিয়েছেন। তাঁর সংযোজন, আমরা আগেই বলেছি এই ধরনের আন্তর্জাতিক পাচার কেন্দ্রের ও রাজ্যের শাসক দলের উঁচু পর্যায়ের লোকজন যুক্ত না থাকলে সম্ভব নয়। বিএসএফ ও রাজ্য পুলিশের একটা অংশের যোগসাজোশ না থাকলে টিএমসি ও বিজেপি গরু পাচার করতে পারত না।
ডিএ মামলার শুনানিতে কোর্টে বারবার তারিখ বদল নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর করা একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মহম্মদ সেলিম বলেছেন, যখন খেলা হবে বলা হয়েছিল তখন তো শুভেন্দুও খেলোয়াড় ছিলেন। ওনার ডিএনএতে তৃণমূল। তাই আলাদা করে ভাবার কোনো দরকার নেই।
পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা না হওয়ার পিছনেও তৃণমূল ও বিজেপির বোঝাপড়া দেখতে পারছেন সেলিম। তিনি বলেছেন, ভোট পিছিয়ে দেওয়ার জন্য মমতার কথায় শুভেন্দু অধিকারী কোর্টে গিয়েছিলেন। কল্কে না পেয়ে এখন দু'পক্ষই জাতিগত ইস্যুতে গোলমাল বাঁধানোর অপচেষ্টা করছেন।

মহম্মদ সেলিম বলেন, যে করেই হোক ভোট পিছনোই লক্ষ্য ওদের। তৃণমূল তো কোনো ভোটই চায় না। স্কুল ভোট বন্ধ। কলেজের ছাত্র সংসদের ভোট বন্ধ। সমবায়ের ভোট বন্ধ। যে ভোট করে সেখানে লুঠ চলে। এমনকী নিজেদের নকল ভোটেও লুঠের ছড়াছড়ি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনজোয়ার যাত্রা যেখান দিয়েই যাচ্ছে, তারপরই সেখান থেকে মানুষ লাল ঝান্ডার তলায় আসছেন বলে সেলিমের দাবি।
পাহাড় ইস্যুতে সেলিমের বক্তব্য, এটা নিয়ে চর্চা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লোকসভার আলোচনা নষ্ট করে দিয়েছেন। মমতা বিধানসভার। আর তৃণমূল গ্রাম সভার। পাহাড়ের সমস্যা সমাধানের ওঁদের রাজনৈতিক কোনো সদিচ্ছাই নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ হচ্ছে বলেও সেলিম দাবি করেন।












Click it and Unblock the Notifications