মমতা বিজেপি বিরোধী কোনো শিবিরেই থাকবেন না, ২৪-এর আগে ভবিষ্যদ্বাণী সেলিমের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগসাজোশের অভিযোগ ফের করল সিপিএম। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, আসন্ন ২০২৪ নির্বাচনের আগে বিরোধী মহাজোট নিয়ে যত কথাই বলুন না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-বিরোধী কোনো শিবিরেই থাকবেন না।
২০২৪-এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে একপ্রকার ভবিষ্যদ্বাণী করে দিলেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি কেন ইউনেস্কো গেলেও তাঁর সঙ্গে থাকবেন না। বিজেপি বিরোধী কোনও শিবিরেই উনি থাকবেন না। তাঁর কারণ তিনি চান না বিজেপি হারুক।

মহম্মদ সেলিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও একবার ধরনা দিয়েছিলেন। ২০১৯ সালে ৩-৫ ফেব্রুয়ারি ধর্মতলায় তাঁর ধরনা মঞ্চে চলে এসেছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের নেতারাও। এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুদিনের তামাশা ধরনা মঞ্চে কোনো নেতা এল না। কোনো চুনোপুঁটি নেতা ফোনও করল না!
২০২৪-এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিজেপি বিরোধী জোটে শামিল হবেন না, তার আভাস বহুদিন ধরেই মিলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে তিনি সুবিধা করে দিয়েছেন বিজেপির। তৃণমূলের জন্য অন্তত দুটি রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে বিজেপি।
সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী জোটে শামিল হবেন, সেটা ভাবা সঠিক হবে না বলেই মনে করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। কেননা বিজেপির সঙ্গে বারবার সখ্যতা রেখে চলতেই ভালোবাসেন মমতা। বাইরে বিরোধিতা দেখান শুধু। এবারও সেই খেলা শুরু করেছেন।
সোলিম বলেন, পালে বাঘ পড়েছে বলে বারবার চিৎকার করলে কোনও না কোনও সময় ধরা পড়বেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দুর্গতি হয়েছে এবার ধরনা মঞ্চে। তাই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন বলে যত লাফান না কেন, কোনো লাভ হবে না। চোরেদের সঙ্গে কেউ নেই।
সেলিম বলেন, চোর তাড়ানোর জন্য আমরা গ্রাম-শহর জাগাচ্ছি। আগেও বলেছিল আমার নামে মামলা করবে। কিন্তু মামলা করার আর সাহস পায়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের সাহস নেই মানুষের দুয়ারে যাওয়ারও। এরা শুধু সরকারি কর্মসূচি এবং সরকারি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে চলতে জানে।
তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন। বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস পারলে চ্যালেঞ্জ নাও এবং নির্বাচনের ডাক দাও। তাঁর কথায়, অ্যাসেম্বলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল, তাতে ঠিক হয়েছিল ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ও তৃণমূল যাচাই করতে চায় না নিজেদের।
মহম্মদ সেলিম বলেন, এই কারণে পঞ্চায়েত এবং উপনির্বাচনগুলি করতে চায় না তৃণমূল কংগ্রেস। এখন নির্বাচন করলে সাগরদিঘি হবে, তা তৃণমূল ভালো মতোই জানে। আমরা চাই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক। আর এই নির্বাচন হোক রাজ্য নির্বাচন কমিশন আইন মেনে, সংবিধান মেনে।












Click it and Unblock the Notifications