মমতা বিজেপিকে নিয়ে বামপন্থীদের উৎখাত করতে চেয়েছিলেন! গর্জে উঠলেন সেলিম
রাজ্যে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের নাম করে অশান্তি করা হচ্ছে শান্ত বাংলাকে। তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপিকে একযোগে নিশানা করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
তিনি বলেন, লাখ লাখ মানুষ যখন দিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিযান করতে চলেছেন, তখন দিল্লিতে নতুন রামায়ণ লেখা হচ্ছে। ঠিক সেই সময় আবার হনুমান জয়ন্তী করতে হবে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেলিম বলেন, এক অংশের ধর্মীয় উৎসবের নাম করে আর এক অংশের মানুষের উপর হামলা কখন ছিল না বাংলায়। এটা নতুন আমদানি হয়েছে। আর তা হয়েছে সেদিন থেকে, যেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন বিজেপিকে নিয়ে বামপন্থীদের উৎখাত করব।
সেলিমের কথায়, সেদিন থেকেই ধর্মীয় উৎসব, ধর্মস্থান, ধর্মগুরুদের মাথায় রেখে উন্মাদনা তৈরি করে বিজেপিকে ভোটে তুষ্ট হতে চেয়েছে। আর তখন থেকেই দাঙ্গার ইতিহাস রচিত হয়েছে বাংলা তথা দেশে। ১৯৭৮ সালে রাম নবমীর নামে দাঙ্গা শুরু হয়। শুরু হয় নতুন পর্যায়ের বিভাজনের রাজনীতি।
সেলিম বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পরে যখন জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটছে, তখন ব্রিটিশরা সুবিধাবাদীদের নিয়ে ধর্মীয় কার্যকলাপ শুরু করে। এখন সেইসব উৎসবের ইতিহাস বা ছবি খুঁজে পাবেন না। কারণ তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। কানপুরে যে দাঙ্গা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবহিকতাকে ফিরিয়ে আনা হল হাওড়া-হুগলিতে।

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এই মর্মে বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। আর আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মন্দির তৈরি করে দেবেন বলছেন। ধর্মীয় উৎসব পালনে অসুবিধা নেই। কিন্তু তা বলে রাস্তায় কেন? এই অবস্থায় হনুমানজয়ন্তীতে আধাসামরিক বাহিনীর ব্যবহারে কেন্দ্র রাজ্যকে চিঠি করেছে।
আর সেলিম তা নিয়ে বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলবেন না রাজ্য পুলিশের কী অবস্থা? ব়্যাফ তৈরি হয়েছিল দাঙ্গা রোধে। কিন্তু মিটিং-মিছিল আটকাতে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আপনার কাছে যদি এক মাস আগে থেকে দাঙ্গার খবর থাকে তাহলে কেন রেড রোডে নাটকে বসে গেলেন।
সেলিম বলেন, সেই একই স্ক্রিপ্ট। বোঝাই যাচ্ছে, দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীরাজ আড়াল করতে ধর্মীয় উন্মাদনা। কয়লা পাচারের সাক্ষীকে গুলি করে খুন করা হল। এই পরিস্থিতি থেকে বাংলাকে বাঁচাতে ধর্মনিরপেক্ষ মানুষকে একজোট হতে হবে। আমরা তাঁদের আহ্বান করছি, আসুন জোট বাঁধুন। তৃণমূল-বিজেপিকে উৎখাত করুন।
সেলিম বলেন, রাম নমবীর হোডিং দেখুন, তৃণমূল বিজেপি একাকার হয়ে গিয়েছে। অথচ তাঁরা মানুষকে ভাগ করছেন। মুখ্যমন্ত্রী বারবার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য জুয়া খেলছেন। কেন্দ্র ক্রমাগত নানা বিষয়ে রাজভবন দ্বারা সরকার চালাতে চাইছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনায় লুটেরারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্বাগত। কিন্তু ইমপ্লিমেন্ট করবে কে? ওইদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ কাউকে আটকায়নি। আগেও তো শর্ত লেখা ছিল। তারপরও বাইক মিছিল আটকায়নি কেন? রুট পরিবর্তন হল কেন? আসলে তামাশা করা হল। যখন-তখন বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড করা হয়।এক্ষেত্রে কেন হল না?












Click it and Unblock the Notifications