সিপিএম বিকল্প হতে পারবে তৃণমূলের? পঞ্চায়েত ভোটের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা সেলিমের
সিপিএম কি বিকল্প হতে পারবে তৃণমূলের? পঞ্চায়েত ভোটের আগে সেই প্রশ্নটা বারবার উঠে আসছে রাজ্য রাজনীতিতে। একুশের ভোটে একেবারে তলানিতে পৌঁছে গিয়েছিল সিপিএম। সেখান থেকে মাত্র দু-বছরের কি সম্ভব আবার তৃ তৃণমূলের বিকল্প হয়ে ওঠা? তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় সেলিম জবাব দিলেন সেই প্রশ্নের।
বঙ্গ রাজনীতিতে ৩৪ বছর ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল সিপিএম। কিন্তু বাংলায় পরিবর্তনের সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই ৩৪ বছরের শাসকের পদস্খলন শুরু। পিছোতে পিছোতে সিপিএম মাত্র ১০ বছরেই শূন্যে নেমে আসে। তারপর শুরু হয় উত্তরণের পালা।

একুশের ভোটে শূন্যে নামার পর সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। পরবর্তী নির্বাচনগুলিতে দেখা যায় বিজেপিকে সরিয়ে তারা প্রধান বিরোধী হয়ে উঠছে। বিজেপি প্রধান বিরোধী দল হয়ে যা পারেনি সিপিএম তৃণমূলকে হারিয়ে ভোটে দিতে পুরসভা পর্যন্ত দখল করেছে।
সিপিএম যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমে একটু একটু করে প্রত্যাবর্তনের জল্পনা তৈরি করছে, তখন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কার্যত স্বীকার করে নিলেন, তাঁদের সঙ্কীর্ণতার কথা। সেলিম বলেন, গত কয়েকমাস ধরে তাদের মিটিং-মিছিলে লোক উপচে পড়লেও এখনও তৃণমূলের বিকল্প হয়ে ওঠার মতো অবস্থায় আসেনি তারা।
মহম্মদ সেলিম কার্যত ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়েই বার্তা দিলেন, সিপিএম খুব ভালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তরণের পথে তারা সঠিকভাবেই এগোচ্ছে। এই চেষ্টাটা জারি রাখতে হবে। তাহলে জয় হবেই হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে শুরু করবে আবার। সেদিন আর বেশি দূরে নেই।

সিপিএমের দুদিন ব্যাপী রাজ্য কমিটির বৈঠকে কোনোরকম রাখঢাক না করেই অকপটে দলের সত্যতা তুলে ধরলেন মহম্মদ সেলিম। তিনি সাফ জানান, দলের কর্মসূচিতে সাড়া পেলেও এখনও তারা তৃণমূলের বিকল্প হওয়ার জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা তারা চালিয়ে যাবেন।
সিপিএমের কাছে আবারও রাজ্য রাজনীতিক নির্ভরযোগ্য অবস্থানে পৌঁছতে হলে তাদের সবার আগে ভবিষ্যতের নেতাকে তুলে ধরতে হবে। আগের সেই ঝাঁঝ ফের ফিরিয়ে আনতে হবে। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তবেই সাফল্যের দেখা মিলবে।

সেলিম বলেন, মনে রাখতে হবে এখন লড়াই আরও কঠিন। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন শুধু তৃণমূল নয়, সাম্প্রদায়িক বিজেপির সঙ্গেও তাদের লড়াই লড়তে হচ্ছে। বিধানসভায় এবার কোনো জায়গা হয়নি তাঁদের। বর্তমান জোটসঙ্গী কংগ্রেস সাগরদিঘি উপনির্বাচনে জিতে বিধানসভায় জায়গা করে নিতে পারলেও সিপিএম এখনও পারেনি।
সিপিএম এখন পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে বদ্ধপরিকর। সে জন্য আন্দোলন নিয়ে ময়দানে থাকতে চাইছে তারা। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোথায় কতটা শক্তি তারা বাড়াতে সম্ভবপর হয়েছে, তা মাপতে চাইছে সিপিএম। তৃণমূলকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসা তো দূর, প্রধান বিরোধী অবস্থান পৌঁছতে এখনও সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications