গরিব-আদিবাসী-মহিলাদের জন্য UPA-র তুলনায় বেশি খরচ মোদী সরকারের! 'বঞ্চিত বাংলা' অভিযোগের জবাব মোদী সরকারের
হাজার হাজার কোটির বকেয়া। বাংলাকে বঞ্চিত করছে মোদী সরকার। সভা- সমাবেশে এমনটাই অভিযোগ তৃণমূলের নেতানেত্রীদের। বাংলাকে অনাহারের মারার অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছিলেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে। ১০ মার্চ ব্রিগেডে তৃণমূলের জন গর্জন সভা থেকেও এই একই অভিযোগ করা হয়। কবে অভিযোগের জবাব দিয়েছে মোদী সরকার।
কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে বাংলায় মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্টের প্রকল্পে অসংগতি ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য সেখানে অর্থ প্রদানে বিরতি রাখা হয়েছে। তবে তৃণমূলের 'মোদী সরকারের আমলে বঞ্চিত বাংলা' প্রচাচের জবাব দিতে গিয়ে মোদী সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৫.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াো সারা দেশে ৮০ হাজার কোটি টাকার খাদ্যে ও ৩০ হাজার কোটি টাকা সারে ভর্তুকিদের সুবিধা ভোগীদের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষজনও রয়েছেন।

মোদী সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, বাংলার দরিদ্র জনগণের জন্য ইউপিএ সরকারের থেকে ১৭০ শতাংশ বেশি বরাদ্দ করেছে মোদী সরকার। পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীন উন্নয়নের জন্য ৯৩,১৭১ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। উল্লেখ্য যে গত দশ বছরের মধ্যে ছয় বছর গ্রামীণ উন্নয়নে সব থেকে বেশি টাকা পেয়েছে এই বাংলা।
স্বচ্ছ ভারত মিশনের জন্য ২১৫১ কোটি টাকা, নগর উন্নয়নের জন্য ১৩৬৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। এছাড়াও মোদী সরকারের তরফে বলা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ৪,৮৯, ৯৫৯ টি বাড়ি তৈরির অনুমে্াদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলার সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ করে আদিবাসী কল্যাণ ও মহিলাদের উন্নয়নের জন্য গত ছয় বছরে যথাক্রমে ৮৩৪ ও ৫৭ ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা জানিয়েছে মোদী সরকার। তারা আরও জানিয়েছে, বাংলার সড়ক প্রকল্পের জন্য ১৫৬৭৫ কোটি টাকা, রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১৯৪৮৩ কোটি টাকা এবং সাগরমালা প্রকল্পগুলির জন্য ১৬৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইউপিএ জমানার তুলনায় মোদী জমানায় রেল বাজেটে ১৭৩ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিও করা হয়েছে।
কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা উল্লেখ করে মোদী সরকারের তরফে বলা হয়েছে, পিএম কিষাণ প্রকল্পে ৮৪৯২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। কুড়ি লক্ষ কিষাণ ক্রেডিট কার্ড অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। গত ছয় বছরে পশুপালন সেক্টরের জন্য ২৮৩ কোটি টাকা এবং মৎস্য চাষের জন্য ৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র।
একদিকে যেমন সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার জন্য ১৪ লক্ষ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনার অধীনে ৫.০৭ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্পের অধীনে ১.৭৯ লক্ষ মানুষকে ১৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ক্ষেত্রে গত পাঁচ বছরে দার্জিলিং, উত্তর ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তিন ইএসআই হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করতে ৩৫৯ জন ঔষধি স্টোর খোলা হয়েছে। কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশনকে ৩৪ কোটি টাকার বেশি এবং রাম মোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশনকে পাঁচ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেলুড় মঠের উন্নয়নের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications