নিশানায় নেই মমতা, ভোট-পরবর্তী জোটের রাস্তা খোলা রাখলেন মোদী

কংগ্রেস-সিপিএমকে নিশানা বানাবেন, জানা ছিল। কিন্তু, তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্দেশে এমন মোলায়েম বার্তা দেবেন নরেন্দ্র মোদী, তা ঘুণাক্ষরেও বোঝা যায়নি।
বুধবার ব্রিগেডের শুরুতে নরেন্দ্র মোদীর আগে যাঁরা ভাষণ দিয়েছেন, যেমন বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ, শাহনওয়াজ হুসেন, সিদ্ধার্থনাথ সিং প্রমুখ তীব্র আক্রমণ শানান মমতাকে। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, "৩৪ বছর পর আপনারা পরিবর্তন এনেছেন। পরিবর্তনের ফলে বাংলায় ভালো কাজ হবে, এটা আশা করেছেন। কিন্তু, রাজ্যের যা আর্থিক অবস্থা, কী করে তা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে বলেছিলেন, তিন বছরের জন্য ঋণে সুদ মকুব হোক। হয়নি। কেন্দ্রে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাংলা সহায়তা পাবে। তখনই আসবে আসল পরিবর্তন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যে কাজ করতে দিন। আমি বাংলার জন্য দিল্লিতে বসে কাজ করব। আর রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রণবদা বসে আছেন। উনি তো আপনাদের নিজেদের লোক। উনি সহায়তা করবেন। আপনাদের তা হলে তিনগুণ লাভ হবে।"
পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে বিজেপি-বিরোধী কোনও জোটে না যান, সেই জন্যও বার্তা দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, "গুজরাত-মহারাষ্ট্র এত এগিয়ে। দেশের পূর্ব অংশ নয় কেন? কারণ এখানে তথাকথিত তৃতীয় মোর্চার আধিপত্য ছিল ও রয়েছে। তৃতীয় মোর্চার অর্থ হল, তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে থাকা। সেটাই হয়েছে।"
এদিন ভাষণে আগাগোড়া বাঙালি ভাবাবেগকে জাগানোর চেষ্টা করেছেন বিজেপি-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বক্তব্য শুরু করেন, "আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি... এই বাংলা পুণ্যভূমি। বাংলা এক সময় রাষ্ট্রগুরুর ভূমিকায় ছিল। আর তখন ভারত ছিল বিশ্বগুরু। তাই ভারতকে বিশ্বগুরু করে তুলতে হলে বাংলাকে আবার রাষ্ট্রগুরুর আসনে বসতে হবে। বাংলায় এক সময় লক্ষ্মী-সরস্বতীর আরাধানা একসঙ্গে হত। আজ বাংলা লক্ষ্মীহীন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থার জন্য ৩৪ বছরের বাম শাসন দায়ী। অবস্থার পরিবর্তন হবে যদি রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসন থেকে বিজেপি প্রার্থীদের জিতিয়ে আনা যায়।"
কংগ্রেসকে আগাগোড়া বিঁধলেও বঙ্গসন্তান তথা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতি নরেন্দ্র মোদী ছিলেন মোলায়েম। সেই বাঙালি সেন্টিমেন্ট। বলেছেন, "১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধী মারা যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল প্রণবদার। কারণ তিনি ছিলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ। অথচ রাজীব গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়। এমনকী, প্রণবদাকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাতে পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বাঙালি বলে এই অবিচার হয়েছে। বাঙালির স্বাভিমানকে যারা এভাবে হেলাফেলা করে, সেই কংগ্রেসকে জবাব দিন এবার। ওদের মুছে দিন এই রাজ্য থেকে।"
যতবার বাঙালি ভাবাবেগ নিয়ে কথা বলেছেন, ততবার ব্রিগেড মুখরিত হয়েছে 'মোদী, মোদী' ধ্বনিতে। বক্তৃতা শেষও করেন সেই বাঙালি ভাবাবেগকে মাথায় রেখে। বলেন, "গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির। আমিও সেই মন্ত্রে বিশ্বাস করি। আসুন, ভয়শূন্য হই। দেশকে বাঁচাতে পরিবর্তন আনি দিল্লিতে।"












Click it and Unblock the Notifications