Mission 2024: বঙ্গ বিজেপির ত্রিমূর্তিকে নিয়ে নয়া ভাবনা, রদবদলের জল্পনা তুঙ্গে
একুশের নির্বাচনে আশা জাগিয়েও আশানুরূপ ফল লকরতে পারেনি বঙ্গ বিজেপি। এমনকী ২০১৯-এর সাফল্যকেও তারা ধরে রাখতে পারেনি। আর তারপর থেকে তো হার আর হার। পরাজয়ের সেই গ্লানি ঝেড়ে ফলতে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনই পাখির চোখ বিজেপির।
একুশের নির্বাচনের পর দলের সংগঠনেও বদল এসেছে। দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব এখন সুকান্ত মজুমদারের উপর ছেড়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। উত্তরবঙ্গের সুকান্তকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি আর দক্ষিণবঙ্গের শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতার আসনে বসিয়ে নয়া সমীকরণ তৈরি করেছিল বিজেপি।

কিন্তু ২০২৪-এর আগে বিজেপি চাইছে সেই ফর্মুলায় বদল আনতে। অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা উল্টে দিতে চাইছে সমীকরণ। তাঁরা বঙ্গ বিজেপির ত্রিমূর্তিকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে। তাই বঙ্গ বিজেপিতে রদবদলের জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা দুই পদেই বদল আসতে পারে।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন আর বেশি দূরে নেই। বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচনের দামামা বেজে যাবে। এবারও বাংলাকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। বাংলা থেকে আরও বেশি আসন ছিনিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য বিজেপির। সেইজন্য এবার বঙ্গ বিজেপির প্রধান তিন মুখ সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষকে নিয়ে পরিকল্পনা কষে এগোতে চাইছেন নাড্ডা-শাহরা।
ইতিমধ্যেই রদবদলরে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিজেপিতে। দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি পদ থেকে। এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অনেকেই দিলীপ ঘোষকে সাইড করার তত্ত্ব খাঁড়া করেছিলেন। কিন্তু বিজেপি তাঁদের নিয়ে অন্য পরিকল্পনা কষছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

দিলীপ ঘোষকে দিয়ে শুরু হয়েছে, এবার অন্যান্যদেরও বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে নতুন পদে আনা হতে পারে। সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে অন্য ভাবনা রয়েছে বিজেপির। আবার বিজেপির পরিকল্পনায় রয়েছে শঙ্কর ঘোষের মতো নেতারাও। মোট কথা বিজেপি চাইছে, পরিকল্পনা কষে লোকসভার আগে এগোতে।
লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে টেক্কা দেওয়াই এবার বিজেপির অন্যতম উদ্দেশ্য। গতবার ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার সেই লক্ষ্যমাত্রাকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হয়েছে। আর বিজেপি এই লক্ষ্যপূরণে টার্গেট করছে মোট ৩৫টি আসনকে। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শক্তিশালী উত্তরবঙ্গে। উত্তরবঙ্গের সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে বদ্ধপরিকর অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডারা।
যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা হচ্ছে, তা হল সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁদের অন্য পদ দেওয়া। শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য সভাপতি করার ভাবনা রয়েছে বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আবার দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদারকে মন্ত্রী করা হতে পারে কয়েক মাসের জন্য। উত্তরবঙ্গের শঙ্কর ঘোষকে বসানো হতে পারে বিরোধী দলনেতার পদে।
এমন নানা জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। মোট কথা, বিজেপি চাইছে নতুন ফর্মুলায় অঙ্ক কষে তৃণমূলকে মাত দিতে। এখন কেন্দ্রীয় বিজেপির ফর্মুলা কতটা ফলপ্রসূ হয়, সেটাই দেখার। বঙ্গের ত্রিমূর্তি এই ফর্মুলা মেনে যুদ্ধ নামতে রাজি হন কি না, সেটাও একটা বড়ো প্রশ্ন। তবে মিশন ২৪-এ বিজেপি ফর্মুলা বদলাবে, তা নিশ্চিত!












Click it and Unblock the Notifications