তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক সংখ্যলঘু নেতাদের, পঞ্চায়েত ভোটের আগে জোয়ার কংগ্রেসে
তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে। আর এই ভাঙন তৃণমূলের কাছে আরো মাথাব্যথার কারণ সংখ্যালঘু নেতারা একে একে সরে যাচ্ছে তৃণমূলের পাশ থেকে। মুর্শিদাবাদে তো বটেই, ভাঙন ধরেছে হাওড়া থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনাতেও।
তৃণমূল যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নবজোয়ার আনতে ব্যস্ত তখন কংগ্রেস নীরবে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাচ্ছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে অভিষেকের নবজোয়ারকে উপেক্ষা করে কংগ্রেসে নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতারা। তাঁদের সঙ্গে কর্মী ও সর্মথকরাও ভিড় জমাচ্ছেন।

সাগরদিঘি উপনির্বাচনে তৃণমূলের হারার পিছনে সংখ্যালঘুদের সরে যাওয়াই অন্যতম কারণ ছিল বলে মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তিনমাসের মধ্যে সাগরদিঘির বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও যে আদতে কোনো লাভ হয়নি তৃণমূলের, তা দফায় দফায় দলবদলের হিড়িকে প্রমাণিত।
সবথেকে বেশি মাত্রায় সংখ্যালঘু নেতারা দল ছাড়ছেন মুর্শিদাবাদে। শনিবারই হরিহরপাড়ার হুমাইপুর থেকে একদল বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীকে যোগদান করায় কংগ্রেস। এদিন বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে জমায়েত হয়ে তাঁরা দলবদল করেন অধীর চৌধুরীর হাত ধরে।
তারপর এদিন আবার মুর্শিদাবাদে রানিনগরে তৃণমূলে বিশাল ভাঙন ধরে। সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি তৃণমূল কর্মী-সমর্থক অধীর চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসে যোগ দিলেন। এদিন শ'পাঁচেক বিজেপি কর্মী-সমর্থকও কংগ্রেসে যোগ দেন। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সাংসদ খলিলুর রহমানের ভাইপো আনারুল হক যোগ দিলেন কংগ্রেসে।
শুধু অধীর-গড় মুর্শিদাবাদেই নয়, হাওড়াতেও তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলে ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মুখে তৃণমূলের হাওড়া জেলা সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি হাফিজুর রহমানের ঘরওয়াপসি হল। রবিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন কংগ্রেসে।
হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পলাশ ভাণ্ডারি তাঁর হাতে পতাকা তুলে দেন। বর্ষীয়ান নেতা অসিত মিত্র তাঁকে স্বাগত জানান কংগ্রেস শিবিরে। তিনি একটা সময় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জেলা যুব কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতেও তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক পড়ে যায়। শতাধিক নেতা-কর্মী যোগ দেন কংগ্রেসে। প্রদেশ কংগ্রেসের সহ সভাপতি আবদুস সাত্তার ও প্রদেশের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সজল দে-র হাত ধরে তাঁরা কংগ্রেসে যোগ দেন।
এদিন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কংগ্রেসে যোগদান করিয়ে আবদুস সাত্তার বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙাটা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। বায়রন বিশ্বাসকে তৃণমূলে যোগদান করিয়ে তৃণমূল যে ভুল করেছে, তার মাশুল গুণবে পঞ্চায়েতে। বায়রনের দলবদলের পর জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত করেছে তৃণমূল।
আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি মাহমাদুল হকও তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন। এদিনই ফেসবুক পোস্টে তিনি নিশ্চিত করেন তৃণমূল ছাড়ার কথা। তাঁর দলত্যাগ আরামবাগে তৃণমূলকে কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। কবে তিনি কোন দলে যোগ দেবেন, তা স্পষ্ট করেননি।












Click it and Unblock the Notifications