মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের ঢল, কপিল মুনির আশ্রমেও ভিড়, কেন এই দিনটি শুভ বলে মনে করা হয়? জানুন
মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করতে আজ ভোর থেকেই লক্ষ্যাধিক মানুষের ঢল নেমেছে। কনকনে ঠান্ডা এবং কুয়াশা উপেক্ষা করেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা পৌঁছেছেন সাগরদ্বীপে। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সাগরসঙ্গমে শুরু হয়েছে পুণ্যডুব। মুহূর্তের মধ্যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে সাগরতট।

স্নানের পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার জন্যেও ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। মন্দির চত্বরে তিল ধারণের কোনও জায়গা নেই। ভিড় সামলানোর জন্য মেলা এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুল পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক। ড্রোন, সিসিটিভি দিয়ে চলছে কড়া নজরদারি। স্নানঘাটে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য জলপথে টহল দিচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং নৌবাহিনী।
প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আকাশ, জল এবং স্থলপথ তিন দিক থেকেই নজর রাখা হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিখোঁজদের খোঁজ পেতে তৈরি হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুমও।
হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, মকর সংক্রান্তির দিনে গঙ্গা এবং সাগরের সঙ্গমে স্নান অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। এই দিনেই সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে এবং শুরু হয় উত্তরায়ণ। পুরাণ মতে, রাজা ভগীরথের তপস্যার ফলেই এই তিথিতে গঙ্গা সাগরে মিলিত হয়েছিল। তাই এই দিনে স্নান করলে পাপক্ষয় হয় এবং পিতৃপুরুষের আত্মা শান্তি পায়, এমনটাই বিশ্বাস ভক্তদের।
স্নানের পাশাপাশি এদিন দান-ধ্যানেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিল, গুড়, বস্ত্র এবং খাদ্যদ্রব্য দান করছেন বহু পুণ্যার্থী। তাঁদের বিশ্বাস যে, "সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার"। সেই বিশ্বাসকে বুকে নিয়েই বছরে একবার গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানে মাতলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications