নরেন্দ্র কাপ উদ্বোধনের আগে শ্রমিক বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিলেন মনোজ, পাল্টা কী বললেন শমীক?
বিবেকানন্দ কাপ আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার। পাল্টা বিজেপি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শুরু করল নরেন্দ্র কাপ। তারই উদ্বোধনের আগে হাওড়ায় সকাল থেকেই দেখা গেল তুমুল বিক্ষোভ।
হাওড়ার দাশনগরে আরতি কটন মিলের মাঠে নরেন্দ্র কাপ উদ্বোধনে হাজির ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। যদিও সকাল থেকেই সেখানে বিক্ষোভ, প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী তথা শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি।

জানা গেল, দীর্ঘদিন ধরে আরতি কটন মিলে শ্রমিকদের বেতন বন্ধ। সেখানেই ফুটবল খেলার আয়োজন দেখে ন্যায্য বকেয়ার দাবিতে সরব হলেন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের আওতায় থাকা মিলের কর্মীরা। মনোজ ছাড়াও তাঁদের পাশে থাকেন শ্রমিক সংগঠন-সহ তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্যের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা।
এই কটন মিলটি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাঁরা শেষ বেতন পেয়েছেন জানুয়ারি মাসে। ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন বন্ধ। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও লাভ হয়নি। সামনে পুজো। বকেয়া বেতনের দাবি নিয়েই ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধনে আসা শমীকের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। মনোজ তিওয়ারি বলেন, আমি নিজে ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী। খেলার বিপক্ষে না। তবে খেলার চেয়েও বেশি জরুরি এই শ্রমিকদের বেতন-সহ যাবতীয় প্রাপ্য বকেয়া মেটানো। মিলের উৎপাদন স্বাভাবিক করা। সে সব না করে খেলা হলে তা মানা যায় না। পহেলগাঁওয়ে আমাদের দেশের নিরীহ নাগরিকদের মারল পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গিরা। পাকিস্তানও তা জানে। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার অনুমতি দিয়ে দিল। আমি তো এ জন্য এশিয়া কাপ বয়কট করছি। পাকিস্তানের সঙ্গে না খেলে কি ওয়াকওভার দেওয়া যেত না?
বিক্ষোভের জেরে ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। নরেন্দ্র কাপ উদ্বোধনের পর শমীক বলেন, আমি সাংসদ হিসেবে এখানকার বস্ত্র বিভাগের পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য। আরতি কটন মিলের শ্রমিকদের বেঁচে থাকার, প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। মিল যাতে চালু হয় তা দেখার অধিকার রয়েছে, বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার রয়েছে। যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সঙ্গে কথা বললাম। আমরা চাই হাওড়ার সমস্ত বন্ধ কলকারখানার দরজার তালা খুলুক। প্রাণের স্পন্দন ফিরুক, হাওড়া জেলার শিল্প স্বমহিমায় ফিরুক। শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটুক। অধিকার, আত্মমর্যাদা নিয়ে আরতি কটন মিলের যে চলমান অতীত সেটাই পুনরুদ্ধার হোক রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের সহযোগিতায়।












Click it and Unblock the Notifications