তৃণমূলের সভাতেই মঞ্চে উঠে মমতার ভাইপোকে সপাটে চড়
কলকাতা, ৪ জানুয়ারি: ভরা সভায় বেশ কেতাদুরস্ত ভাষণ দিচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হঠাৎই এক যুবক মঞ্চে উঠে ঠাস করে চড় কষালেন তাঁকে। ঘটনার পর অভিযুক্তকে বেধড়ক মারধর করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চণ্ডীপুরে।
আরও পড়ুন: দলে আছি বলে শুভবুদ্ধি চেপে রেখেছি, ফের বিস্ফোরক সাধন পাণ্ডে
এ দিন চণ্ডীপুরে যুব তৃণমূলের একটি সভা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন প্রধান বক্তা। তিনি যখন রাজ্য সরকারের 'উন্নয়নমূলক কাজ' নিয়ে কথা বলছেন, তখন এক যুবক মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে তুলতে মঞ্চের ডানদিকের সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসেন। সবাই ভেবেছিলেন, ওই ব্যক্তি সম্ভবত তৃণমূলের কোনও কর্মী এবং অভিষেকবাবুর একান্ত ভক্ত। কারণ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁর কাছে এসে অনেকে এমন ছবি তোলেন।

এর পরই ঘটে ঘটনাটা। ওই যুবক প্রথমে ডান হাত দিয়ে সপাটে চড় মারেন অভিষেকবাবুকে। তিনি সরার চেষ্টা করতেই বাঁ হাত দিয়ে থাপ্পড় কষান। প্রাথমিক বিহ্বলতা কাটিয়ে মঞ্চে ওপর আসীন দলীয় নেতারা ওই যুবককে ধরে ফেলেন। তৃণমূলের কর্মীরা মঞ্চে উঠে এসে হামলাকারীকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নেয়। তার পর শুরু হয় গণধোলাই। তমলুকের এসপিডিও-কে লক্ষ্য করে ইট মারা হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ অনেক কষ্টে ওই যুবককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় চণ্ডীপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা জানতে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম-ধাম জানারও চেষ্টা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয় সংবাদমাধ্যমও।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেন, "আমি শুনেছি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই সময় সারদা নিয়ে কথা বলেছিলেন। বলছিলেন, সারদায় নাকি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর পরই চড় খান। খতিয়ে দেখতে হবে, ওই যুবক সারদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না। আবার ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে এটা ঘটতে পারে। তবে এমন হিংসার রাজনীতিকে ভারতীয় জনতা পার্টি সমর্থন করে না।"












Click it and Unblock the Notifications