আকাঙ্খা খুনে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি প্রেমিক উদয়নের, উদ্ধার হল দেহের আকৃতির কংক্রিটের চাঙর
বেশ কয়েক মাস ধরে লিভ ইন সম্পর্কে ছিল দুজনে। তারপর একদিন নিজের প্রেমিকাকেই খুন করে বাড়ির মধ্যে পুঁতে দিয়েছিল সে। তথ্য লোপাট করতে সেই জায়গায় ইঁটের গাঁথনি তুলে সিমেন্টে ঢেকে দেয়।
কলকাতা, ৩ ফেব্রুয়ারি : প্রায় ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় উদ্ধার হয় ভোপালে খুন হওয়া বাঁকুড়ার মেয়ে আকাঙ্খার দেহের আকৃতির কংক্রিটের চাঙর। পুলিশের সূত্রে খবর, আকাঙ্খাকে খুন করার পর তাঁর দেহে ১০ বস্তা শুকনো সিমেন্ট ঢেলে দেহকে কংক্রিটের করে তোলে অভিযুক্ত প্রেমিক উদয়ন। উদয়নকে জেরা করে, সেই সূত্র অনুযায়ী এই তল্লাশি চালিয়ে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে, এখন এই চাঙর থেকে কীভাবে কীভাবে আসল দেহ টিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্ত হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।
এর আগে জানা যায়,বেশ কয়েক মাস ধরে লিভ ইন সম্পর্কে ছিল দুজনে। তারপর একদিন নিজের প্রেমিকাকেই খুন করে বাড়ির মধ্যে পুঁতে দিয়েছিল সে। তথ্য লোপাট করতে সেই জায়গায় ইঁটের গাঁথনি তুলে সিমেন্টে ঢেকে দেয় সে। ডিসেম্বর মাসে এই ঘটনা ঘটার পর থেকেও ওই একই বাড়িতে স্বাভাবিকভাবেই দিন যাপন করছিল ওই যুবক। অবশেষে বৃহস্পতিবার পুলিশের জালে ধরা পড়ে নিজের মুখেই কবুল করেছে সে কথা।

পুলিশ সূত্রের খবর মৃতার নাম আকাঙ্খা শর্মা। জুন মাস থেকে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আলাপ হয় উদয়ন দাস নামে এক যুবকের সঙ্গে। দুতিন মাস আগে বাড়ি থেকে সে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে জানিয়ে যায় বিদেশে চাকরির সূত্রে সে যাচ্ছে।
এরপর থেকেই ভোপালে উদয়নের সঙ্গে লিভ ইন শুরু করে আকাঙ্খা। প্রথম প্রথম বাড়িতে ফোন করে কথা বলত আকাঙ্খা। কিন্তু ডিসেম্বর থেকেই ফোন করা বন্ধ করে দিয়ে শুধু চ্যাটে নিজের খবরটুকু জানাতে শুরু করে সে। তাতেই খানিক সন্দেহ হয় আকাঙ্কার পরিবারের। এরপরই তারা পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ তদন্ত করতে নেমে প্রথমেই আকাঙ্খার ফোনের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন দেখে জানতে পারে তার ফোন ভোপালে রয়েছে। ফোনের সূত্র ধরেই উদয়ের কাছে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশের জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করে নেয় উদয়ন।
উদয়ন পুলিশকে জানিয়েছে, ডিসেম্বর মাসে একদিন ঝগড়া হওয়ার ফলে রাগের মাথায় গলা কেটে আকাঙ্খাকে খুন করে সে। তারপর দেহ লুকিয়ে রাখতে ভোপালে যে বাড়িতে তারা থাকত সে বাড়ির মাটিতেই আকাঙ্খাকে পুঁতে দেয় সে। তারপর জায়গাটি ঢাকতে ইঁট সিমেন্টের একটি উঁচু গাঁথনি বানিয়ে দেয় সে। এই ঘটনায় আরও এখ বন্ধু তাঁকে সাহায্য করেছিল বলে উদয় জানিয়েছে।
উদয়নের ওই বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। কী কারণে আকাঙ্কাকে খুন করা হয়েছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদয়নের বিরুদ্ধে খুন, তথ্য লোপাটের মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications