মমতা বনাম ইডি, কীভাবে সংঘাতের রাজনীতি কলকাতার রাস্তায় বিস্ফোরিত হল? জানুন

কলকাতায় ৮ জানুয়ারির সকালটা ছিল একেবারে সাধারণ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শহরের রাস্তায় নেমে আসে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও রাজ্য সরকারের মুখোমুখি সংঘর্ষের নাটক। ইডির অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রশাসন, পুলিশ, মন্ত্রী নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত মাঠে নেমে পড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইডি সেদিন বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় তল্লাশির জন্য সাল্টলেক, বিধাননগর ও কলকাতার বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালায়। লক্ষ্য ছিল কয়েকটি কোম্পানি ও ব্যক্তির দপ্তর বাসা যার মধ্যে আই প্যাক এর অফিস, সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি ও বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর দপ্তরও ছিল।

ইডি দাবি করে তদন্তে উঠে এসেছে, পূর্ব ভারতের কয়লা পাচারচক্রের অর্থ বেনামি দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। সেই টাকার হদিস পেতেই অভিযান আর এর সঙ্গে নির্বাচন বা রাজনীতি কোনওভাবেই যুক্ত নয়, বলেই দাবি কেন্দ্রীয় সংস্থার।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছবির মোড় বদলে যায়। ফোনে যোগাযোগ না পেয়ে সরাসরি প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেরিয়ে এসে অভিযোগ করেন ইডি তাঁদের তথ্যভান্ডার, নথি, হার্ডডিস্ক, নির্বাচনী কৌশল সবই নিতে চাইছে। "এটা কি নির্বাচনের আগে দলকে আঘাত করার চেষ্টা নয়?" প্রশ্ন করেন তিনি। রাজ্যের জ্যেষ্ঠ পুলিশ অফিসাররাও ওই বাড়ি ও আই-প্যাক অফিসে পৌঁছে যান।

আই প্যাক অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে মমতা জানান, ভোরে তল্লাশি শুরু হওয়ায় অফিসে লোকজন ছিল না, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে নাকি সংস্থার তথ্য কপি করে নেওয়া হয়েছে। "টেবিল খালি। এত নথি আবার তৈরি করতে সময় লাগলে নির্বাচনই শেষ হয়ে যাবে!" অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।

ইডি পাল্টা বিবৃতিতে জানায় সব কিছুই শান্তিপূর্ণ ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের পরই তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল ঝড়ো। তৃণমূল এই অভিযানের আখ্যা দেয় "নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সংস্থার রাজনৈতিক আগ্রাসন"। ঘোষণা হয় জেলা ও ওয়ার্ডে প্রতিবাদ মিছিল, আর ৯ জানুয়ারি কলকাতায় বড় মাপের র‍্যালি।

অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী সংবিধানবিরোধীভাবে তদন্তে হস্তক্ষেপ করেছেন। "ইডি র তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে, এর জবাব আইনেই দিতে হবে" হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।

দিনের শেষে কলকাতা দেখল কেন্দ্র বনাম রাজ্য দ্বন্দ্বের আরেক অধ্যায় ঠিক যেন ২০১৯ এর ঘটনাপ্রবাহের পুনরাবৃত্তি, তবে এবার যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু নথি, ডেটা ও হার্ডডিস্ক। তদন্ত এগোবে কীভাবে তা আদালতের রায় ও সংস্থার পদক্ষেপেই স্পষ্ট হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+