'এই ধরনের অন্যায় মানব না, এর বিরুদ্ধে...'! 'বড়মা'র তিরোধান দিবসে বিজেপিকে নিশানা মমতার, কী বললেন?
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। আর এই আবহেই মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ সামনে এনে বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মতুয়া ধর্মগুরু 'বড়মা' বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নাগরিকত্বের নামে মতুয়াদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন যে, "নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেক মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।" তাঁর কথায়, "এই ধরনের অন্যায় মানব না, এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।"
সমগ্র মতুয়া সমাজের ও মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম।
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 5, 2026
শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার…
রাজ্যের রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীদের নাগরিকত্ব প্রশ্ন বরাবরই অনেক বড় সম্যসার। অনেক মতুয়া পরিবার বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, কিন্তু তবুও প্রাচীন নাগরিকত্বের কাগজপত্র অনেকের কাছেই নেই। এর ফলে, এই বিষয়টি নির্বাচন ঘিরে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত SIR তালিকায় দেখা গিয়েছে যে, মতুয়া অধ্যুষিত অনেক এলাকায় অনেকের নাম 'বিচারাধীন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে নদিয়া, রানাঘাট, বসিরহাট, বনগাঁ-সহ বিভিন্ন এলাকায় এরকম পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। অথচ এই অঞ্চলগুলিতে মতুয়া ভোট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যে, 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন' অর্থাৎ 'Citizenship Amendment Act' পাশ করেছিল সেই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মের শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান দেওয়া রয়েছে।
বিজেপির দাবি যে, এই 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন' অর্থাৎ 'Citizenship Amendment Act' আইনের ফলে মতুয়া শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে আবার তৃণমূলের বক্তব্য যে, মতুয়ারা আগে থেকেই ভারতের নাগরিক, তাই নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে তাদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
তবে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এখনও একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাগরিকত্বের শংসাপত্র কবে পাওয়া যাবে, নির্বাচন ঘোষণার আগে তা আদৌ পাওয়া যাবে কি না এবং ভোট দেওয়ার সুযোগ তাদের থাকবে কি না, এই সমস্ত অনিশ্চয়তাই এখন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মতুয়া সমাজে।












Click it and Unblock the Notifications