এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনে পঞ্চম চিঠি মমতার, কোন সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান চাইছেন?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের আজ চিঠি দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে। এসআইআরের ত্রুটি নিয়ে এটি মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পঞ্চম চিঠি।
চিঠিতে তিনি ২০০২ সালের ভোটার তালিকার এআই-চালিত ডিজিটাইজেশন ত্রুটির অভিযোগ করে মমতা জানান, এতে ভোটার তথ্যে গুরুতর ভুল, ডেটা অমিল এবং "যৌক্তিক অসঙ্গতি" হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় প্রকৃত ভোটাররা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

মমতার কথায়, "আধা-বিচারিক শুনানিতে" সংশোধনের পরেও ইসি নিজেদের আইনানুগ প্রক্রিয়া উপেক্ষা করছে। ভোটারদের ফের পরিচয় প্রমাণে বাধ্য করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, "দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচন কমিশন নিজেদের কাজ ও প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, তা স্বেচ্ছাচারী, অযৌক্তিক এবং ভারতের সংবিধানের মর্ম ও চেতনার পরিপন্থী।"
তিনি আরও দাবি করেন, SIR প্রক্রিয়ায় জমা নথির সঠিক স্বীকৃতিপত্র নেই, যা "মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ"। তাঁর মতে, SIR শুনানি "বেশিরভাগই যান্ত্রিক, কেবল প্রযুক্তিগত ডেটা-নির্ভর", যা "চিন্তাভাবনা, সংবেদনশীলতা ও মানবিক স্পর্শবিহীন" এবং "গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি" দুর্বল করছে।
মানবিক মূল্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, এই গঠনমূলক অনুশীলনে "ইসিআইয়ের অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে সৃষ্ট ভয়, ভীতি প্রদর্শন ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মভার"-এর জেরে "ইতিমধ্যেই ৭৭ জনের মৃত্যু, ৪ জন আত্মহত্যার চেষ্টা এবং ১৭ জনের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির" ঘটনা ঘটেছে।
মমতা বিশিষ্ট নাগরিকদের হয়রানিরও নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নোবেলজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন, কবি জয় গোস্বামী, অভিনেতা ও সাংসদ দীপক অধিকারী, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মহাম্মদ শামি এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজকেও "এই অপরিকল্পিত, অসংবেদনশীল ও অমানবিক প্রক্রিয়ার শিকার হতে হয়েছে।" প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ও বাংলা দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লাকেও এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মমতা প্রশ্ন তোলেন, "এটা কি ইসিআই-এর চরম ধৃষ্টতা নয়?" মুখ্যমন্ত্রী নারী ভোটারদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেসব নারী বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়ে পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের পরিচয় প্রমাণে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা ও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে।
মমতা যোগ করেন, "এটি কেবল সামাজিক সংবেদনশীলতার সম্পূর্ণ অভাবই প্রতিফলিত করে না, বরং নারী এবং প্রকৃত ভোটারদের জন্য একটি গুরুতর অপমান। একটি সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ কি এভাবে তার অর্ধেক ভোটারদের সঙ্গে আচরণ করে?"
নির্বাচন কমিশনকে এই সমস্যাগুলি অবিলম্বে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন মমতা। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে "নাগরিক এবং সরকারি ব্যবস্থার হয়রানি ও যন্ত্রণা শেষ হবে" এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications