মমতার বাংলায় মোদীর থেকেও বেশি সাহায্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের, আম্ফানেও বঞ্চনা
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বাংলার বুকে অনেকের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রায় ৩০০ বছর আগে ১৭৩৭ সালে শেষবার বাংলায় বুকে আঘাত হেনেছিল এমনই এক ভয়ঙ্কর ঝড়। তখনও পলাশির যুদ্ধ হয়নি।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফান বাংলার বুকে অনেকের জীবদ্দশায় দেখা সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রায় ৩০০ বছর আগে ১৭৩৭ সালে শেষবার বাংলায় বুকে আঘাত হেনেছিল এমনই এক ভয়ঙ্কর ঝড়। তখনও পলাশির যুদ্ধ হয়নি। সেই ঝড়ের হানার পর এবারের ঘূর্ণিঝড় কলকাতায় যে ক্ষতি করেছে তা এককথায় রেকর্ড।

আম্ফান বিপর্যয়ে বাংলা
আম্ফানের ফলে মানুষের জীবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পরিবার এবং সম্প্রদায় বিঘ্নিত হয়েছে। সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে। মূল অবকাঠামো পঙ্গু হয়ে গেছে। শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলি নির্মমভাবে উপড়ে পড়েছে। মানুষকে সরিয়ে নেওয়ায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ফলে মৃত্যুর সংখ্যা সীমিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতিতে রাশ টানা যায়নি।

বাংলার বুকে ট্র্যাজেডি
এই অবস্থায় বাংলার বুকে যে ট্র্যাজেডি নেমে এসেছিল, তাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। বিঘার পর বিঘা জমি, ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষিকাজ, মৎস্যচাষ, বন্যপ্রাণী পর্যটন বা মধু সংগ্রহ-সহ সমস্ত জীবিকাই বিপন্ন। সুন্দরবনের মানুষের উপর বিশেষ করে অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছিল আম্ফান।

কেবল বাংলার সমস্যা নয় : ডেরেক
এই পরিস্থিতিতে মোদী সরকার সেভাবে সাহায়্যের হাত বাড়ায়নি বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন। তিনি বলেন, এই সমস্যা কেবল বাংলার সমস্যা নয়, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষাও এর ফলে সংকটের মুখে পড়বে। বাংলা ভারতের ধানের ২০ শতাংশ এবং রবি ফসলের এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন করে।

এল-থ্রি ক্যাটাগরির বিপর্যয়, কেন্দ্রের বঞ্চনা
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০১৬ অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে এল-থ্রি ক্যাটাগরির বিপর্যয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ। এত বড় আকারের বিপর্যয়ের পরও আজ অবধি কেন্দ্রীয় সরকার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে এল-থ্রি ক্যাটাগরির বিপর্যয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করেনি। ২০১৩ সালের কেরালার বন্যার জন্য কেন্দ্র এল-থ্রি ক্যাটাগরির বিপর্যয় বলে উল্লেখ করা হলেও, আম্ফানে বাংলা বঞ্চিতই থেকে গিয়েছে।

বাংলার পাশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
রাজ্যের এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র এল-থ্রি ক্যাটাগরির বলে ঘোষণা না করায় কেন্দ্রীয় সরকারি সাহায্যের কোন বাধ্যবাধকতায় নেই। এটা অবাক করা বিষয় যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পরবর্তী সময়ে ভারতকে সহায়তা করার জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ লক্ষ ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত বাংলাকে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বাংলা কেন্দ্রের সহায়তার এক টাকাও পাননি।












Click it and Unblock the Notifications