জমি অধিগ্রহণ চান না, তবুও ঘটা করে শিল্প সম্মেলন মমতার, বিঁধল বিজেপি
কলকাতা, ৩১ ডিসেম্বর: একদিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে মহানগরীতে আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন করছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের জমি নীতির বিরোধিতা করে দলকে পথে নামার ডাক দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পরস্পর-বিরোধী অবস্থানে যারপরনাই বিস্মিত সব মহল।
দু'দিন আগেই কেন্দ্র জমি অধিগ্রহণ আইনে কিছু সংশোধনী এনেছে অর্ডিন্যান্স পাশ করে। সেই মোতাবেক, জনস্বার্থে এক লপ্তে অনেক জমি নিতে হলে জমির মালিকদের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। শিল্প করিডর নির্মাণ, গরিবদের স্বার্থে আবাসন প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কারখানা ইত্যাদি কারণে জমি নিলে মালিকদের আগাম অনুমতি দরকার নেই। কিন্তু ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বাজারদরের চেয়ে বেশি। শহরাঞ্চলে চলতি বাজারদরের চারগুণ আর গ্রামাঞ্চলে দু'গুণ। সরকারের এই নীতিকে স্বাগত জানিয়েছে শিল্প মহল।

কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্রের জমিনীতি 'জনবিরোধী' আর তাই তিনি বাংলায় তা কার্যকর করতে দেবেন না। এ জন্য আজ, বুধবার পথে নামছেন শাসক দলের কর্মীরা। তাঁরা জমি অর্ডিন্যান্সের কপি পুড়িয়ে, নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাবেন। গতকাল খড়্গপুরের কর্মীসভায় মমতা নিজে বলেছেন, "এত সাহস যে, জোর করে জমি-বাড়ি কেড়ে নেবে! রাজ্যের অনুমতি নেবে না। গোটা দেশটাকে বিজেপি বিক্রি করে দিতে চাইছে। বাংলায় এই বিল কার্যকর করতে দেব না। যদি করতে হয়, আমার মৃতদেহের ওপর দিয়ে করুক।"
এ দিকে,৬-৮ জানুয়ারি কলকাতায় অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক শিল্প সম্মেলন। দেশি-বিদেশি শিল্পপতিদের ডাকা হয়েছে সেখানে। জমি নেওয়ার বিরোধিতা যদি মমতা করে যান, তা হলে কোন ভরসায় বাংলায় শিল্পপতিরা বিনিয়োগ করবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজেপি নেতা তথাগত রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, "রাজ্য সরকারের শিল্পবিরোধী নীতির কারণে শিক্ষিত যুবকরা আজ দিশাহারা। তাঁরা কাজের সন্ধানে ছুটছেন বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে। শিল্পবিরোধী নীতির কারণে কোনও শিল্পোদ্যোগী এ রাজ্যে আসতে চাইছেন না। তাঁদের কি পাগলা কুকুরে কামড়েছে যে, এখানে শিল্প গড়তে আসবেন?"












Click it and Unblock the Notifications