ভবানীপুর থেকে এক ভোটে হলেও জিতব, বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললেন মমতা, এবার জৈন মন্দির তৈরিরও ঘোষণা
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর থেকেই লড়বেন এবং একটি ভোটে হলেও জিতবেন। আজ এমনই মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন ও দোল উৎসবের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জৈন মন্দির তৈরির আশ্বাসও দেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষ হিসেবে যাঁরা এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। জানি না ঈশ্বর তাঁদের প্রতি সদয় হবেন কি না। AI ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি সেই বিজেপি নেতাদের চিনি যারা তৃণমূল জিতেছে এমন নির্বাচনী এলাকাগুলো থেকে ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ভোটার যাতে বাদ যায় সেটা নিশ্চিত করেছে। আমি আমার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের উদাহরণ দিয়েছি। তবে আমি বলে রাখি, ভোটার তালিকায় যদি একজন ভোটারও অবশিষ্ট থাকে, আমি তাতেই ভবানীপুর থেকে জিতব। ঈশ্বরের উপর আমার বিশ্বাস আছে। আমি সব সম্প্রদায় ও ধর্মকে শ্রদ্ধা করি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, আমি যখন মানস্তম্ভের উদ্বোধন করেছিলাম, তখন জৈন সম্প্রদায়ের মানুষরা আমাকে নিউ টাউনে মন্দির তৈরির জন্য জমি বরাদ্দের অনুরোধ করেছিলেন। আমি তাঁদের একটি ট্রাস্ট গঠন করতে বলেছিলাম, আমি জমি চিহ্নিত করে রেখেছি। বিশ্ব বাংলা গেটের কাছে ৫ একর জমি সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়া হবে। জগন্নাথ ধাম, দুর্গা অঙ্গন, মহাকাল মন্দির, গুরুদ্বার গেট এবং মসজিদের জন্য জমি প্রদানের মাধ্যমে আমি প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছি।
মমতা বলেন, আজ আমার মন খুব খারাপ। বাংলার ১.২০ কোটি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারানোর মুখে। গতকাল এক ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, যখন তিনি দেখলেন তাঁর নাম Under Adjudication ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। অথচ সেই ব্যক্তি তাঁর পাসপোর্ট-সহ অন্যান্য নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও ভোট দিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে, একই পরিবারে স্বামীর নাম ভোটার তালিকায় আছে কিন্তু স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন জানেন? মহিলারা বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে চলে যান, আর সেই কারণেই তাঁদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। আপনারা কি মনে করেন এটা ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও মাপকাঠি হতে পারে? এত বছর ভারতে থাকার পর এখন কি আমাদের নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে মনে করা বন্ধ করতে হবে? আপনারা কি মনে করেন এটা সঠিক? এটা কি মানুষের প্রতি অবিচার নয়? আমি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা ধর্মের কথা বলছি না। এই দেশের প্রতিটি প্রকৃত ভোটারের নৈতিক অধিকার আছে ভোট দেওয়ার। কিন্তু এই পক্ষপাতদুষ্ট ভারত সরকার এবং নির্বাচন কমিশন 'ভ্যানিশ কুমার'-এর সাহায্যে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম মুছে ফেলতে চাইছে।
মমতার কথায়, সংবিধান আজ সংকটে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বিপন্ন। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি। ভুক্তভোগীদের যন্ত্রণা আমি অনুভব করতে পারছি। তাঁরা সাধারণ এবং প্রান্তিক মানুষ, তাঁদের কোনও দোষ নেই। যা যা নথিপত্র চাওয়া হয়েছিল, তাঁরা সব জমা দিয়েছিলেন। প্রথমে কোনও যাচাই ছাড়াই আপনারা ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিলেন। সব কিছু সম্পন্ন হওয়ার পর আবার ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করলেন। গতকাল একজন BLO মারা গিয়েছেন। আজ আরও একটি মৃত্যু হয়েছে। ভোটার তালিকায় নিজের নাম বিবেচনাধীন দেখে এক মহিলা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। এটা কার দোষ? এখানে একজন কুখ্যাত ব্যক্তি BLO এবং ERO-দের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। এই BLO এবং ERO-রা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য আপনাদের মাইক্রো-অবজারভার এবং বিজেপির দিল্লির পার্টি অফিসে বসে থাকা লোকেরাই দায়ী।
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রাকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, এখানে তারা (বিজেপি) ফাইভ-স্টার গাড়িতে চড়ে রথযাত্রা বের করছে। রাজনৈতিকভাবে এই রথযাত্রাই হবে আপনাদের শেষ যাত্রা। ভবানীপুরে ২.৬ লক্ষ ভোটার ছিল। আগে আপনারা ৪৪,০০০ ভোটারকে বাদ দিয়েছেন। এবার আপনারা ২,০০০ ভোটারকে বাদ দিয়েছেন এবং ১৪,০০০ ভোটারকে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি'-র অধীনে রেখেছেন। এই ভোটাররা তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছেন কেন?
সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্বাচন কমিশন, আমি সব জায়গায় এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের সহযোগিতা করেছি, ধৈর্য ধরেছি। কিন্তু আজ আমাকে বলতেই হচ্ছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে, বাংলার মানুষ তাদের যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত। নির্বাচন কমিশন ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা করছে। যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় আছে, তাঁরা এই যন্ত্রণা বুঝবেন না। কিন্তু মনে রাখবেন, আজ আপনার প্রতিবেশীর নাম বাদ গেলে কাল আপনার পালাও আসতে পারে। আমি স্তম্ভিত। এটি একটি অমানবিক পরিস্থিতি এবং প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের প্রতিফলন। ওই কাপুরুষেরা গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই করতে পারে না। তারা পক্ষপাতদুষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করে। তারা এই দেশের গণতন্ত্র শেষ করার চেষ্টা করছে। আমি এর ধিক্কার জানাই।
মমতা আরও বলেন, আমি ৬ মার্চ থেকে ধরনা শুরু করছি। মানুষের জন্য লড়াই করার জন্য আমাকে নৈতিক সমর্থন দিন। আমি সারা জীবন সংগ্রাম করেছি; মানুষের জন্য সংগ্রাম করতে করতে মরতেও আমি রাজি। আপনারা যে কাউকেই ভয় দেখাতে পারেন, কিন্তু আমাদের নয়। আপনাদের মানুষের উপর বিশ্বাস নেই, আপনাদের ভরসা শুধু এজেন্সির উপর। সেই কারণেই আপনারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। ন্যায়বিচার নীরবে কাঁদছে। কিন্তু অমানবিকতাকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মানবিকতারই জয় হবে। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করব। সবার ভালো থাকা প্রয়োজন। আমরা সবাই ভালো না থাকলে এই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা বিভাজন ও বৈষম্য করি না; আমরা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করি। এটাই আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। আমরা কোনও অশুভ শক্তির সামনে মাথা নত করব না। আমি স্বামীজি, গান্ধীজি এবং আমাদের দেশের মনীষীদের আদর্শ অনুসরণ করব।












Click it and Unblock the Notifications