মমতা নয়া রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছেন ভবানীপুরে, ট্রেন্ড অনুযায়ী জিততে পারেন কত ব্যবধানে
মমতা নয়া রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছেন ভবানীপুরে, ট্রেন্ড অনুযায়ী জিততে পারেন কত ব্যবধানে
রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের জন্য দৌড়চ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয় রথ। এবপার নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙতে চলেছে মমতা। ২০১১-র উপনির্বাচনের রেকর্ড ভেঙে মমতা বন্যোিজপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন কোথায় গিয়ে থামে তা নিয়েই ময়নাতদন্তে চালাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ১০ রাউন্ড গণনার শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যা ব্যবধান, তাতে রেকর্ড মার্জিনের ট্রেন্ডই স্পষ্ট হচ্ছে।

মমতার মার্জিন কমাতেও ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির প্রার্থী
ভবানীপুরের উপনির্বাচনের দিকে এবার নজর গোটা দেশের। নন্দীগ্রামে বিতর্কিত হারের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জিততে তৃণমূল সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল। বিজেপিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে কোমর বেঁধেছিল। এমনকী প্রচারের শেষদিনে বিজেপি নামিয়েছিল ৮০ জন নেতাকে। তবু মমতার জয় রোখা তো দূরত্ব, মমতার মার্জিন কমাতেও ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল।

৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মমতার জয়ের ব্যবধান!
রবিবার ভবানীপুপর কেন্দ্রের নির্বাচনী ফল সামনে আসার পর থেকেই দেখা যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন বাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছেন। ভবানীপুরে গত নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার এই কেন্দ্রে প্রার্থী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল এই কেন্দ্রে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পাবে বলে মনে করছে। ফিরহাদ হাকিম বলছেন, মমতাদির জয়ের ব্যাবধান ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার পর্যন্ত হতে চলেছে।

২০১১-এ ৫৪ হাজারে জয়ের রেকর্ড ভেঙে দেবেন মমতা!
এখন পর্যন্ত অর্ধেক ভোট গণনা হয়েছে। ১২ রাউন্ড গণনার শেষে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের থেকে। এই ব্যবধান ৫০ হাজার কেন ২০১১-এ ৫৪ হাজারে জয়ের রেকর্ড ভেঙে এগিয়ে যেতে পারে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের।

ভবানীপুর কেন্দ্রে নয়া রেকর্ডের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, এবার অন্যান্য উপনির্বাচনের থেকে বেশি ভোট পড়েছে ভবানীপুরে। এই বাড়তি ভোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে গিয়েছে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৪ হাজারেরও বেশি। এবার সেই ৫৪ হাজার মার্জিনটাও টপকে যাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

৫০ হাজারেরও বেশি ব্যবধান জয়ের টার্গেট ছিল মমতার
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫০ হাজারেরও বেশি ব্যবধান জেতানোর বার্তা নিয়েই প্রচারে ঝড় উঠেছিল। তৃণমূল একুশের নির্বাচনের যে ব্যবধান এই কেন্দ্রে তৈরি করেছিল, তার দ্বিগুণ ব্যবধানের জয়ের ট্রেন্ড দেখাচ্ছে বর্তমানে। কেউ কেউ মনে করছেন সেই সংখ্যাও টপকে যেতে পারেন মমতা। কেননা এখন ফিরহাদ হাকিমের ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের গণনা বাকি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ে একুশের প্রতিফলন ঘটাই স্বাভাবিক
তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল জয় পেয়েছে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে। ২১৩টি আসনে জিতে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গত দুবারের থেকেও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর নন-এমএলএ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কারণেই ছ-মাসের মধ্যে এই উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। কেননা বাংলার রায় আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ে তারই প্রতিফলন ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক।

৮০ জনকে নামিয়েও মমতার জয়ের পথে কাঁটা হতে পারেনি বিজেপি
সেটাই ঘটতে চলেছে এবার ভবানীপুর উপনির্বাচনে। বিজেপি কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেও ব্যর্থ। শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, নয়া রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার থেকে শুরু করে রাজ্যের শীর্ষসারির সমস্ত নেতা-নেত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ ৮০ জনকে নামিয়েও মমতার জয়ের পথে কাঁটা হতে পারেনি বিজেপি। বিজেপি শুরু থেকেই ব্যবধান বাড়িয়ে রেকর্ড গড়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছেন ক্রমশ।

শোভনদেবের জয়ের মার্জিনের দ্বিগু হবে মমতার জয়!
২০২১-এ বিধানসভার সাধারণ নির্বাচনে ভবানীপুরে কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জিতেছিলেন ২৮৭১৯ ভোটে। বিজেপির প্রার্থী তৃণমূলত্যাগী রুদ্রনীল ঘোষের চ্যালেঞ্জ রুখে ভবানীপুরে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। শোভনদেব এবার যে ব্যবধান রচনা করেছিলেন, তার থেকেও বেশি ব্যবধান গড়ে মমতা এবার আরও একটা রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়
ভবানীপুরকে বলা হয় মিনি ইন্ডিয়া। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ এখানে বসবাস করেন। ফলে বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাতে এখানে অ-বাঙালি প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে প্রার্থী করছিল। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও চ্যালঞ্জ দিতে পারেননি। এখন দেখরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের মার্জিন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।












Click it and Unblock the Notifications