ভবানীপুরে মমতার জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা! অতীত পরিসংখ্যান কী বলছে, একনজরে
ভবানীপুরে মমতার জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা! অতীত পরিসংখ্যান কী বলছে, একনজরে
ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন ৩০ সেপ্টেম্বর। এবার নির্বাচনে ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরছেন। অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের ভবানীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম উভয় কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে শুধু নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন তিনি। নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর তিনি এবার ভবানীপুরে ফিরছেন জয়ের খোঁজে।

ভবানীপুরে ঘরের মেয়ের বরাবর সাফল্য
পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফেরায়নি। অতীত রেকর্ড ঘেঁটে দেখলেই বোঝা যাবে ভবানীপুরে ঘরের মেয়ে বরাবর সাফল্য পেয়ে এসেছেন। ভোট ঘোষণা হতেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রচার শুরু করে দিয়েছে। ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে এসেছে বলে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলও মনে করছে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

অতীত পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতার জয়ের প্রচার
সোমবারই মনোনয়নপত্র জমা দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে দেওয়াল লিখন ও প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। ভবানীপুরে ব্যানার, হোর্ডিং ও ফ্লেক্স পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বলতে শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট জয় এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। অতীত পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁরা মমতার জয়ের প্রচার চালাচ্ছে ভোটের আগে থেকেই।

২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল
২০১১ সালে ভবানীপুরে ক্লিন সুইপ হয়েছিল তৃণমূলের পক্ষে। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে সেবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন সুব্রত বক্সি। ৮৭ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়েছিলেন। সিপিএমের নায়ারণ প্রসাদ জৈনকে হারিয়েছিলেন ৪৯ হাজার ৯৩৬ ভোটে। ৬৪.৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন সুব্রত বক্সি। আর সিপিএম পেয়েছিল ২৭.৯৭ শতাংশ ভোট। বিজেপি সেবার পেয়েছিল মাত্র ৫ হাজার ৭৮টি ভোট।

২০১১ সালে উপনির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল
এরপর ২০১১ সালেই এই কেন্দ্র থেকে ইস্তফা দেন সুব্রত বক্সি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচনে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছিলেন। সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সিপিএম প্রার্থী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পান ৭৩৬৩৫ ভোট। আর নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পান ১৯৪২২ ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৪ হাজার ২১৩ ভোটে জয়ী হন। মমতা ভোট পেয়েছিলেন ৭৭.৪৬ শতাংশ। সিপিএম পায় মাত্র ২০.৪৩ শতাংশ ভোট।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিপক্ষে ছিলেন বামসমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সি। মমতা ভোট পান ৬৫৫২০টি। আর দীপা দাশমুন্সি ভোট পান ৪০২১৯টি। তৃণমূল সুপ্রিমোর জয়ের ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২৫৩০১। বিজেপির চন্দ্রকুমার বসু ২৬২৯৯টি ভোট পেয়েছিলেন সেবার। তৃণমূল, কংগ্রেস ও বিজেপির ভোট শতাংশ যথাক্রমে ৪৭.৬৭, ২৯.২৬ ও ১৯.১৩ শতাংশ। বিজেপির ভোট প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল ২০১৬ সালে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ফলাফল
২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষের বিরুদ্ধে তিনি ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। শোভনদেব পেয়েছিলেন ৭৩ হাজার ৫০৫ ভোট। রুদ্রনীল ঘোষ পেয়েছিলেন ৪৪৭৮৬ ভোট। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী কংগ্রেসের সাদাব খান পান মাত্র ৫২১১ ভোট। তৃণমূল এখানে পায় ৫৭.৭১ শতাংশ ভোট। বিজেপি পায় ৩৫.১৬ শতাংশ ভোট। আর কংগ্রেস পায় মাত্র ৪.০৯ শতাংশ ভোট।

২০১১ সালের উপনির্বাচনে ভবানীপুর ফেরাবে না মমতাকে
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারও অন্যথা হবে না। ভবানীপুর ফেরাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবার যে পরিমাণ জনমত নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারপর প্রথম নির্বাচন হচ্ছে। ভবানীপুরে তাই আরও একটি রেকর্ড হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। ২০১১ সালে ভবানীপুরে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭৭ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা টমকে গিয়ে রেকর্ড হয় কি না সেটাই দেখার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কে প্রার্থী, ভাবছে বিরোধীরা
বিজেপি এখন এই কেন্দ্রের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবেন, তা চূড়ান্ত করতে পারেনি। কংগ্রেস এবার উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন কি না নিশ্চিত নয়। অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে। তবে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর ছেড়েছেন। তিনি একা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলেও জানিয়েছেন। কংগ্রেস কী সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকে তাকিয়ে সিপিএমও।












Click it and Unblock the Notifications