জঙ্গলমহলে ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখিয়েছে বিজেপি, তাই ‘শান্তির বারি’ নিয়ে যাচ্ছেন মমতা
মাত্র দু-বছরের মধ্যে কেন এই হাল হল দলের, তা খতিয়ে দেখতে নিজেই জঙ্গলমহলে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জঙ্গলমহলে বিজেপির কাছে জবরদস্ত ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভাবতেও পারেনি এক ধাক্কায় তাদের এই হাল হবে। ভাবতে পারেনি, সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একেবারে এত গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি হাতছাড়া হবে জঙ্গলমহলে। মাত্র দু-বছরের মধ্যে কেন এই হাল হল দলের, তা খতিয়ে দেখতে নিজেই জঙ্গলমহলে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিনই কর্ণাটকে কুমারস্বামী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে ফিরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাড়ি দিতে পারেন জঙ্গলমহলের উদ্দেশ্যে। মে মাসের শেষ সপ্তাহেই জঙ্গলমহল সফরে গিয়ে তিনি পর্যালোচনা করতে পারেন, দুই জেলায় কেন এই খারাপ ফল তৃণমূলের।
এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলায় বিজেপি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। দুই জেলায় মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি পঞ্চায়েত দখল করে নিয়েছে বিজেপি। জেলা পরিষদেরও ১৪টি আসন দখল করেছে। এই ফল লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঁপিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। আর তৃণমূল কংগ্রেস যে এই ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছে, তাও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী সশীরের এলাকায় গিয়ে খতিয়ে দেখতে চাইছেন কোথায় খামতি দলের। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে নিজে প্রচার করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন। প্রচারের সমস্ত দায়িত্বভার তিনি অর্পণ করেছিলেন তাঁর দলের নেতৃত্বের কাঁধে। সর্বত্রই জয় ছিনিয়ে এনে মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করেছেন মন্ত্রী-নেতারা। কিন্তু জঙ্গলমহলের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুশি করতে পারেননি কেউ।
তাই এদিন নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরই তিনি জঙ্গলমহল সফরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি মন্ত্রিসভার সকল সদস্য, রাজ্য নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভালো করার জন্য। সেইসঙ্গে জানিয়ে দেন, জঙ্গলমহলে কেন দল খারাপ ফল করল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এবং তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনবেন। বুঝবেন, কেন তাঁদের বৃহৎ একটা অংশ মুখ ঘুরিয়ে নিলেন তৃণমূল থেকে। কী তাঁদের অভিযোগ।
এই মর্মে তিনি জঙ্গলমহলের জন্য প্রশাসনিক ও দলীয় স্তরে কিছু পরিকল্পনা নিতে পারেন। জঙ্গলমহলের জন্য তিনি যেমন উদার হতে পারেন, তেমনই জঙ্গলমহলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। পাহাড়ের ধাঁচে আলাদা গণ সংগঠনও গড়তে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী খতিয়ে দেখতে চাইছেন জেলায় ব্লক ও অঞ্চল সভাপতিদের ভূমিকাও।












Click it and Unblock the Notifications